ছুটির দিন থেকে জমে উঠেছে চট্টগ্রামে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব)-এর আবাসন মেলা। ফ্ল্যাট ও প্লট ক্রয়ে নগদ মূল্য ছাড়সহ বিভিন্ন অফার দিয়ে ক্রেতা আকর্ষণ করেছে মেলায় অংশ নেওয়া আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে মাত্র ৫ লাখ টাকায় বুকিং দেওয়া যাচ্ছে বিশ^মানের প্রিমিয়াম মেগা গেইটেড কমিউনিটি ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’র ফ্ল্যাট।
চট্টগ্রাম নগরীর হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে রিহ্যাব আয়োজিত চার দিনব্যাপী আবাসন মেলা। ক্রেতাসাধারণের জন্য নানা অফার নিয়ে আবাসন প্রতিষ্ঠান, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস, ব্যাংক, অর্থলগ্নিকারীসহ বিভিন্ন ধরনের মোট ৭৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে মেলায়। শেষ দুই দিনে মেলায় ভালো বেচাকেনার আশা করছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে মেলা ঘুরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাট নিয়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। তবে মেলার স্টলগুলোর মধ্যে স্বনামধন্য স্টলগুলোতে ছিল বেশি ভিড়। বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের অবস্থান, ফ্ল্যাটের আকার, মূল্য, মেলার অফারÑ এসব বিষয়ে নানা তথ্য জেনে নিচ্ছিলেন মেলায় যাওয়া বেশিরভাগ লোক।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় ঢুকতেই হাতের ডানে তিন নম্বর স্টলে রয়েছে দেশের অন্যতম আবাসন প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ হাউজিংয়ের ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’। রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপক মো. হেলাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় নাগরিক জীবনকে নান্দনিকতায় সাজাতে ‘রূপায়ণ গ্রুপ’ রাজধানীর ঢাকার উত্তরায় গড়ে তুলছে দেশের প্রথম প্রিমিয়াম মেগা গেইটেড কমিউনিটি ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’। প্রায় ৩ হাজার কাঠা জায়গার ওপর বিশ^মানের এই আবাসন প্রকল্পে থাকছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক চারটি ফেইজে ৫০টিরও অধিক দশতলা ভবন। ৬৩ শতাংশ খোলা জায়গায় থাকছে সবুজ ল্যান্ডস্কেপ ও ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট।
প্রকল্পটিতে মাত্র ৫ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার সুবিধা রয়েছে জানিয়ে মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কথিত প্রতিশ্রুতি বা বর্গফুটের গালগল্প কিংবা স্বপ্নের ফ্ল্যাট হস্তান্তর রূপকথা নয়। গ্রাহকদের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করাই আমাদের লক্ষ্য। দায়বদ্ধতা নিয়েই আবাসন খাতে দীর্ঘদিন ধরে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নগরায়ণের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশবান্ধব আধুনিক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ প্রজেক্টটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। প্রজেক্টটিতে সর্বনি¤œ ১৮৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭০৭২ বর্গফুটের ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, প্রায় ৩ হাজার কাঠা জায়গার ওপর বিশ^মানের এই আবাসন প্রকল্পে থাকছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক চারটি ফেইজে ৫০টিরও অধিক দশতলা ভবন। ৬৩ শতাংশ খোলা জায়গায় থাকছে সবুজ ল্যান্ডস্কেপ ও ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টা পানি, গ্যাস, বিদ্যুতের সুব্যবস্থা, খেলার মাঠ, শিশুদের জন্য ইনডোর গেমস জোন, এক্সক্লুসিভ ওয়েটিং লাউঞ্জ ও রিসেপশন, লাইফস্টাইল অ্যামিনিটিসহ কমিউনিটি ক্লাব, সুপার মার্কেট, কনভেনিয়েন্স স্টোর, ব্যানকুয়েট হল ও বারবিকিউ জোন, লেডিস ও জেন্টসের জন্য জিমনেশিয়াম, প্রায় ২ কিলোমিটার প্রাকৃতিক এলাকাজুড়ে ওয়াকওয়ে ও জগিং ট্র্যাক, পেন্টহাউস। আধুনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মসজিদ, সাবস্টেশন, সুইমিং পুল, ব্যাডমিন্টন ও বাস্কেটবল কোর্ট থাকবে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক্সক্লুসিভ সুবিধা হিসেবে থাকছে মতিঝিল থেকে রূপায়ণ সিটি উত্তরা পর্যন্ত আধুনিক মেট্রোরেল সংযোগ। এই প্রকল্পের ৫ কিলোমিটার দূরত্বেই বিমানবন্দর এবং কাছাকাছি রয়েছে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও উত্তরা কার্ডিয়াক হাসপাতাল।
রাজধানী ঢাকার উত্তরার পাশাপাশি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী, কাতালগঞ্জ, হালিশহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের আরও ২১টি প্রকল্পে হাজারো অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপক মো. হেলাল উদ্দিন।
এয়ারবেলের মহাব্যবস্থাপক মো. আবু তাসলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত ছোটখাটো কোনো বিষয় নয়। যে কারণে হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এখনো যারা মেলায় আসছেন, তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন, কেউ কেউ এখান থেকে তথ্য নিয়ে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে যাচাই-বাছাই করছেন। তবে মেলার শেষ দুই দিন ক্রেতাদের আগমন বাড়বে এবং বেচাকেনা হবে।’
মেলায় অংশ নেওয়া আবাসন প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের সিনিয়র ম্যানেজার (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) মো. ফয়সল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত বেচাকেনা হয়নি বললেই চলে। অনেকেই আসছেন, বিভিন্ন প্রজেক্ট সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জেনে নিচ্ছেন। এরপর নিজেরা তা যাচাই-বাছাই করে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষে হয়তো সিদ্ধান্ত নেবেন।