হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা নিয়ে আকাশের তথ্যচিত্র

সামাজিক-রাজনৈতিক চাপ এবং সুবিধাবাদী মহলের পেশি শক্তির দাপটের কারণে বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সব সময় একটা আতঙ্ক বিরাজ করে। যে কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা, মন্দির ভাঙচুরসহ নানাবিধ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ফলে অনেক হিন্দু পরিবার বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। আলোকচিত্রী সাংবাদিক কৃষ্ণ দে আকাশের ক্যামেরায় উঠে এসেছে এসব ঘটনার কিছু অংশ।

তথ্যচিত্র ‘ ভয়ের তাড়া’ Scare of Fear তে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা-নির্যাতনের কাহিনি তুলে ধরেছেন আকাশ।

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে তথ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয় রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে। এতে মূল আলোচক ছিলেন অ্যাড. রবীন্দ্র ঘোষ, সভাপতি, বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ; শ্যামল কুমার রায়, সভাপতি বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি); পূর্ণিমা রানী শীল, সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের শিকার তরুণী ও পরিমল চন্দ্র রায়, সাবেক সভাপতি, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বক্তারা বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু বিশেষ করে নির্বাচন পরবর্তী হামলার তীব্র নিন্দা জানান। সুবিধাবাদী মহলের হীন স্বার্থের কাছে বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কতটা অসহায় তারই একটি চিত্র তুলে ধরেন। দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ব্যর্থতারও সমালোচনা করেন আলোচকবৃন্দ।

২০০১-২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ২০ হাজার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। শুধু ২০১৭ সালে বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতায় ৭ জন হিন্দু মারা যান। জন্মভূমিতে কেন এত নিরাপত্তাহীনতা, কেন ভয়ের তাড়া এসব নিয়েই তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার আলোচিত তরুণী পূর্ণিমা শীল বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও ভ্যাট-ট্যাক্স দেন। তারপরও হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার সমালোচনা করেন তিনি। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার নিন্দা করে তিনি সরকারকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান।’