ফার্স্ট করে দেওয়ার প্রলোভনে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব, রাজি না হওয়ায় যৌন হয়রানি

শেরপুরের নকলা উপজেলার স্থানীয় এক শিক্ষার্থীকে ওই স্কুলের কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম (৫৩) কর্তৃক যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজে গত বুধবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেনজির আহম্মেদকে মৌখিকভাবে এবং ১৬ মার্চ শনিবার লিখিতভাবে অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হয়নি। তাই জানাজানির পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুল ক্যাম্পাসে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক ফরিদ এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

ওই শিক্ষার্থীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, গত ১১ মার্চ সোমবার সকালে শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম তার ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে প্রথমে লাইব্রেরিতে ডেকে নেন। ওই ছাত্রীকে প্রতি বছর পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়ে ফার্স্ট করে দেবেন এবং তাকে অনেক ভালো ছাত্রী বানানোর দায়িত্ব তিনি নেবেন বলে জানান। এর বিনিময়ে ওই শিক্ষককে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে নিরিবিলিতে সময় দিতে হবে ছাত্রীকে। কিন্তু ছাত্রী রাজি না হয়ে লজ্জায় বাড়ি চলে যায়।

এরপরের দিন স্কুলে না গিয়ে তার একদিন পর ১৩ মার্চ বুধবার স্কুলে গেলে ওই শিক্ষক স্কুলের নীরব স্থান সিঁড়ি কক্ষে ফের ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন এবং গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে ওই ছাত্রী এবং ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন।

ছাত্রী ঘটনাটি ওই দিনই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে বাড়ি চলে আসেন এবং বৃহস্পতিবার আর স্কুলে যাননি। মেয়েটির বাবা তার স্কুলে না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে মেয়েটি বাবাকে কান্না করে বিস্তারিত খুলে বলেন।

বাবা রেগে গিয়ে স্কুলে এসে শনিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি শুনে উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভ করেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবিএম বেনজির আহম্মেদ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখবো সত্যিই কি শিক্ষক দোষী কিনা। দোষী হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ফরিদুল বলেন, সব অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। স্কুলের একটি চক্র আমাকে ফাঁসানোর জন্য এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এ নাটক সাজানো হয়েছে।

স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ইয়াসিন মিয়া বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাসীন দলের সদস্য। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর থেকেই বিষয়টিকে মীমাংসার জন্য প্রভাবশালীরা জোর তদবির শুরু করেছেন।

এদিকে বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানা মাত্র পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নকলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে শনিবার ওই স্কুলে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে আমি এবং পুলিশ প্রশাসন পরিদর্শনে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। ঘটনা সত্য হলে আইনগত ও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।