জাতীয় দলের হয়ে সব প্রথমেই অন্যরকম আবেগ মিশে থাকে ক্রীড়া তারকাদের। সাদমান ইসলামের জন্য নিজ জিল্যান্ড সফরও তাই একটু অন্য রকমই ছিল। জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম বিদেশ সফর বলে কথা।
কিন্তু হ্যামিল্টন ও ওয়েলিংটন টেস্টে দলকে ওপেনিংয়ে ভালো শুরু এনে দিতে পারলেও শেষ পর্যন্ত সফরটা বিভীষিকাময় হয়ে থাকল সাদমানের জন্য। ক্রাইস্টচার্চে তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামার আগেই স্থানীয় এক মসজিদে ঘটে গেল ভয়াবহ এক সন্ত্রাসী হামলা। যা খুব কাছ থেকে দেখে ভাগ্যক্রমে জীবন নিয়ে ফেরা টাইগারদের। ২৩ বছর বয়সী সাদমানের দেশের হয়ে প্রথম সফরটি তাই তাড়িয়ে বেড়াবে আজীবন।
গেল নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে জাতীয় দলে অভিষেক সাদমানের। খেলেছিলেন সিরিজের শেষ টেস্টে। অভিষেকেই প্রথম ইনিংসে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে নজর কাড়েন। বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে জেতায় দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাট করতে হয়নি তাকে। তবে টেস্টে আপাতত নিজের জায়গাটা পোক্ত হয়ে যায় ওই এক ইনিংসেই।
নিউজিল্যান্ড সফরে শুধু টেস্ট স্কোয়াডে থাকলেও সাদমান ওয়ানডে দলের সঙ্গে যোগ দিতে অনেক আগেই দেশটিতে পা রাখেন। বিপিএলের কারণে ওয়ানডে সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য একাদশ তৈরি করতে যখন গলদঘর্ম অবস্থা, তখন মুমিনুল হক, শফিউল ইসলাম ও মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে দেশ ছাড়েন সাদমান। স্কোয়াডে না থাকলেও তাই ওয়ানডে দলের সঙ্গী হয়ে ছিলেন।
টেস্ট সিরিজ শুরু হতেই মাঠের পরীক্ষা শুরু বাঁ-হাতি ওপেনারের। নিউ জিল্যান্ডের মতো বিরুদ্ধে কন্ডিশনে ওপেনিংয়ে ইনিংস শুরু করা তো সহজ কিছু নয় মোটেও। তার ওপর মাত্র এক টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা তার। তারপরও দুই টেস্টের চার ইনিংসেই দলকে ভালো শুরু এনে দিয়েছেন সাদমান।
ইনিংসকে বড় করতে পারেননি ঠিক। তবে ২৪, ৩৭, ২৭ ও ২৯ রানের ইনিংসগুলো ছিল প্রশংসনীয়। তার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেছিলেন ৬৭ রানের ইনিংস।
তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ তো হার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে তবু ভালো কিছুর প্রত্যয় ছিল। যেখানে নিশ্চিতভাবেই সাদমানের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকত সবাই। কিন্তু মাঠেই যে নামা হলো না। বরং প্রাণ নিয়ে ফেরাই এখন বড় স্বস্তি।
ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে আল নুর মসজিদে শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত মসজিদ টিতেই নামাজ আদায়ের জন্য যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। এরপর ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরা। বাংলাদেশ দলকে বহনকারী টিম বাস আর পাঁচ-দশ মিনিট আগে পৌঁছালেই ঘটতে পারত অন্য কিছু।
ভয়ানক এই ঘটনাকে সঙ্গী করে শনিবার রাতে দেশে ফিরেছে টাইগাররা। দেশে ফেরার পরও এদিন ক্রিকেটারদের সবার চোখেমুখে মিশে ছিল ভয়ার্ত সেই ঘটনার ছায়া।
বিমানবন্দরে ক্রিকেটারদের পরিবার-পরিজনদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সামদানের মায়ের মনে ছিল ছেলেকে ফিরে পাওয়ার স্বস্তি। সংবাদমাধ্যমকে সেই ভালো লাগার কথা জানাতে ভোলেননি তিনি, ‘‘আমার ছেলে যখন ফোনো জানাল, তখন মনে হচ্ছিল আমার পায়ের নিচে মাটি নেই। ভালোভাবে ওরা সবাই ফিরে এসেছে এতেই অনেক খুশি।’’
সাদমান ইসলামের মতো নিউ জিল্যান্ডে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম সফর ছিল নাঈম হাসানেরও। তবে এই অফ স্পিনারের মাঠে নামা হয়নি।