ছেলেকে বিয়ের করাতে দেশে ফেরার কথা ছিল নাইমের, ফিরছে দুইজনের লাশ

দুই ছেলেকে নিয়ে প্রতি শুক্রবারের মতো জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক নাইম রশিদ। পাকিস্তানের আবোটাবাদ থেকে ক্রাইস্টচার্চে আসা রশিদ শিক্ষকতা করতেন। দেশে থাকাকালীন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন তিনি।  

বড় ছেলে তালহা ১১ বছর বয়স থাকা অবস্থায় তাকে নিয়ে তিনি নিউ জিল্যান্ডে আসেন। পড়াশোনা শেষ করে সম্প্রতি চাকরিতে ঢুকেছে তালহা। ছেলেকে বিয়ে করানোর পরিকল্পনা করেন নাইম। এ জন্য শিগগির পাকিস্তানে আসছেন বলেও তার ভাইকে ফোনে জানান।

ভিডিওতে দেখা যায়, শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ট্যারেন্টকে প্রতিহত করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন রশিদ। এতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি মারা যান। মসজিদে গুলিতে মারা যান ছেলে তালহা।

রাশিদের ভাই খুরশিদ আলম ভিডিওতে তার ভাইকে দেখে জানান, তার ভাইয়ের সাহসী কর্মকাণ্ডে তিনি গর্বিত। তিনি বিবিসিকে বলেন, “সে ছিল সাহসী। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে আমি শুনেছি, বন্দুকধারীকে আটকাতে এগিয়ে গিয়ে সে কিছু মানুষকে বাঁচিয়েছে।”  

খুরশিদ আরও বলেন, “সে বীরত্বের কাজ করলেও তাকে হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারছি না। তার ত্যাগ আমাদের জন্য এখন মর্যাদার কিন্তু তাকে হারানোটা অপূরণীয় ক্ষতি। মনে হচ্ছে, আমার একটি অঙ্গ হারিয়ে ফেলেছি।”

তালহার বন্ধুরা জানায়, সম্প্রতি একটি নতুন চাকরি শুরু করেছিল সে। শিগগির বিয়ে করার পরিকল্পনাও করে তালহা।

লাহোর থেকে তার চাচা জানান, “কয়েকদিন আগে তার বাবা নাইমের সঙ্গে কথা হয়েছিল। ছেলেকে বিয়ে করাতে সে শিগগিরই পাকিস্তান আসবে বলেছিল। আর এখন বাবা-ছেলের লাশ পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে আমাদের।”

রাশিদের আরেক ছেলেও মসজিদে গুলিবিদ্ধ হয়। সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে নিজের জীবনের পরোয়া না করে বহু মানুষকে বাঁচানো নাইমের পরিবারের জন্য জাতীয় পুরস্কার ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তিনি টুইটে লেখেন, ‘আমরা নাইমের পরিবারের পাশে আছি। পাকিস্তান তার জন্য গর্বিত। জাতীয় পুরস্কার দিয়ে তার এই সাহসিকতাকে মূল্যায়ন করা হবে।’