রাতেই ভোটগ্রহণের অভিযোগ, তিন উপজেলায় ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন

রাঙ্গামাটিতে বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর ও কাউখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। একই সঙ্গে সাত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীও তাদের ভোট বর্জনের খবর জানিয়েছেন। ভোট বর্জন করে নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেছেন তারা। দুই উপজেলাতেই জাতীয় রাজনৈতিক দলের কোনো দলই অংশ নেয়নি।

‘রাতে ভোট গ্রহণ ও দিনে বেলায় ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হতে না দেওয়া’র অভিযোগ এনে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরুর এক ঘণ্টা পরেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা এবং তিন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী।

এ উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দুটি অংশের প্রভাবশালী দুই নেতা বড়ঋষি চাকমা  ও সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা মুখোমুখি হয়েছিলেন এবার চেয়ারম্যান পদে।

ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ও এবারের প্রার্থী বড় ঋষি চাকমা অভিযোগ করেছেন, ‘গতকাল রাতেই বিভিন্ন কেন্দ্রে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই আমার সমর্থক ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) বিপুল সংখ্যক বহিরাগত ও সশস্ত্র কর্মী এলাকায় অবস্থান নিয়ে ভোট সন্ত্রাস করলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় আমি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলাম। আমার সঙ্গে আরও তিন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীও নির্বাচন বর্জন করেছে।

নানিয়ারচরের চেয়ারম্যান প্রার্থী রূপম দেওয়ান অভিযোগ করেছেন, রাতেই বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে গেছে এবং দিনের বেলায় আমরা ও আমাদের ভোটাররা কেন্দ্রেই যেতে পারছি না। সঙ্গত কারণেই নির্বাচনে থাকার কোনো মানে নেই। তাই আমিসহ তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং চার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্জন করে নির্বাচন থেকে সরে গেলাম।

তিনি জানান, চেয়ারম্যান প্রার্থী জোন্তিনা চাকমা, পঞ্চানন  চাকমাও নির্বাচন বর্জন করেছেন। বর্জনকারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- রণ বিকাশ চাকমা, সুজিত তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা  ও কনিকা চাকমা।

এদিকে কাউখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনসংহতি সমিতি সমর্থিত প্রার্থী অর্জুন মনি চাকমা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এই উপজেলায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগের শামসুদ্দৌহা ও জনসংহতি সমিতির প্রার্থীর অর্জুন মনি চাকমার মধ্যে অর্জুন মনি চাকমা ভোট বর্জন করেন।

তিনি বলেন, ব্যাপক ভোট কারচুপি ও ভোট প্রদানে ভোটারদের বাধার কারণে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।

নানিয়াচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসউদ পারভেজ মজুমদার বলেন, তিন চেয়ারম্যান ও চার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন স্থগিত করার জন্য আমার কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি আমি রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি।

রাঙ্গামাটির রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শফি কামাল বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বাঘাইছড়ি উপজেলায় দুই আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি বড়ঋষি চাকমা ও জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) সমর্থিত প্রার্থী সুদর্শন চাকমা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে নানিয়ারচর উপজেলায় ৫ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বর্জনকারী তিন চেয়ারম্যাপন প্রার্থী বাদে রূপম দেওয়ান এবং বর্তমান চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা দুজনই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ( এমএললারমা)র প্রার্থী হিসেবে প্রচার ও দাবি করে আসছিলেন। এই দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জাতীয় দলগুলোর কোনও প্রার্থী নেই।