সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের এক মাস আগেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রাজতন্ত্রের বিরোধী ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘নীরব’ করে দিতে একটি গোপন প্রচারণার অনুমোদন দিয়েছিলেন। গত রবিবার গোপন ওই নির্দেশনার নথি প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্রচারণার মধ্যে নজরদারি, অপহরণ, বন্দি ও নির্যাতন করার মতো নির্দেশনাও ছিল বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। গোপন এই নথিটি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের হাত হয়ে ফাঁস হয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমটিতে বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই প্রচারণাকে সৌদির র্যাপিড ইন্টারভেশন গ্রুপের কাজ বলে অভিহিত করেন। ওই গ্রুপেরই একটি অংশ গত বছরের অক্টোবরে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করে। বিশ্বব্যাপী রাজতন্ত্রবিরোধী ভিন্নমতাবলম্বীদের সতর্ক করতেই ওই হত্যাকাণ্ড চালানো হয় বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানরা ও সিনেটররা বিশ্বাস করেন, খাশোগি হত্যার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই দায়ী। যদিও সৌদি কর্র্তৃপক্ষ জানায়, এই হত্যার পেছনে যুবরাজ দায়ী নয়। তবে ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে সৌদি কর্র্তৃপক্ষ ১১ জনকে অভিযুক্ত করেছে। খাশোগি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও র্যাপিড ইন্টারভেশন গ্রুপের সদস্যরা গত এক বছরে সৌদি আরবের অনেক ব্যক্তিকে ও নারী অধিকারকর্মীকে বন্দি করেছে।
ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়, এই গ্রুপটির সদস্যরা তাদের কাজে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন, গত জুনে এর প্রধান যুবরাজের একজন শীর্ষ উপদেষ্টাকে তাদের জন্য ঈদুল ফিতরের বোনাস দেওয়ার কথা জানান। অবশ্য সৌদি কর্র্তৃপক্ষ এমন কোনো গ্রুপের অস্তিত্ব আছে বলে স্বীকার করেনি।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি কর্র্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করেন, দ্য র্যাপিড ইন্টারভেশন গ্রুপটি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দায়িত্বে থাকলেও এর কার্যকরী প্রধান সাউদ আল কাহতানি। রাজতন্ত্রের অভ্যন্তরের এই কর্মকর্তাকে সৌদি যুবরাজের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন ধরা হয়। খাশোগি হত্যার পর কাহতানিকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হলেও অভিযুক্ত ১১ জনের মধ্যে তিনি আছেন কি নাÑ সে বিষয়ে সৌদি কর্র্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।