ফেসবুকের কড়া সমালোচনায় আরডার্ন, ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনার সরাসরি ভিডিও প্রচার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন।

বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে আরডার্ন বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে আরও বেশি কিছু করতে হবে।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদে জুমার নামাজরত মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি করে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী ব্রেনটন ট্যারেন্ট। এতে নিহত হন ৫০ জন। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরও ৩৬ জন। পুরো ঘটনাটি  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করে ট্যারেন্ট।

কিউই প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক মাধ্যমগুলো থাকবে আর বলবে তাদের দায়বদ্ধতা নেই- এনিয়ে আমরা বসে থাকব না, মেনে নেব না। তারা তো বার্তাবাহক নয়, প্রকাশক। আপনি ব্যবসা থেকে সব ধরনের মুনাফা করবেন কিন্তু দায় নেবেন না- এমনটা হতে পারে না।”

তবে একইদিন ফেসবুক জানায়, ট্যারেন্টের হামলার ভিডিওটি তাৎক্ষণিক সরাসরি দেখেছেন প্রায় ২০০ জন। মুছে ফেলার আগে সেটি দেখে ফেলেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ।

তবে সামাজিক মাধ্যমটি জানায়, ঘটনার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ভিডিওটির ১৫ লাখ কপি তারা মুছে ফেলেছেন। এছাড়া নতুন করে আপলোড করার সময় আটকে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১২ লাখ কপি।

এদিন আরডার্ন আরও জানান, হামলাকারীর নাম উচ্চারণ করতে ইচ্ছুক নন তিনি।

কিউই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের নিয়ে কথা বলার জন্য আপনাদের প্রতি অনুরোধ করছি, যে ব্যক্তি তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তাকে নিয়ে নয়। সে একজন সন্ত্রাসী। সে একজন অপরাধী। সে একজন চরমপন্থী। কিন্তু তাকে নিয়ে আমি যখন বলব, তার নাম মুখে আনব না।”

এদিন পার্লামেন্টে আরডার্ন আরবি ভাষায় সালাম (আসসালামু আলাইকুম) দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। মুসলমানদের এই সম্ভাষণের অর্থ- আপনার বা আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।