ডাক্তার বলছেন ধর্ষিত, পুলিশের দাবি প্রমাণ নেই

শিশুটির বয়স সাত বছর। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। এই বয়সেই ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। পাশবিক নির্যাতনের শিকার শিশুটি এখন কাউকে দেখলেই আঁতকে ওঠে। অপরিচিত কাউকে দেখলেই মায়ের আঁচল তলে লুকিয়ে যায়। সেই সঙ্গে কান্না শুরু করে। কিছুতেই থামে না তার কান্না।

রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিশুটিকে ধর্ষণ করে সুমন (২০) নামে এক যুবক। এ ঘটনার পর ফতুল্লা মডেল থানায় ধর্ষণের মামলা করেন শিশুটির মা।

বাদীর অভিযোগ, ধর্ষণের মামলার এজাহার বদলে ধর্ষণচেষ্টার মামলা রুজু করে পুলিশ।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শুভ আহম্মেদ বলেছেন, ‘আমি মামলার এজাহার বদল করিনি, বাদী নিজেই এজাহার সংশোধন করে দিয়েছেন। এখানে আমার কোনো হাত নেই।’

পাশাপাশি এসআই শুভ আহম্মেদ বলেছেন, মামলার পর নির্যাতনের শিকার শিশুটির বক্তব্য নিতে গেলে কিছুই জানায়নি শিশুটি।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ওই শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছি আমরা।

এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, চিকিৎসকেরা যেখানে বলেছেন ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেখানে পুলিশের এসআই কীভাবে বলছেন শিশুটি জানিয়েছে ধর্ষণ হয়নি?

এ বিষয়ে মামলার বাদী শিশুটির মা আরও বলেন, মূলত আসামিকে বাঁচানোর জন্যই আমাকে না জানিয়ে মামলার এজাহার বদলে দিয়েছেন এসআই শুভ। এ অবস্থায় শিশু ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছি আমরা। নির্যাতনের শিকার মেয়েটা চার দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অথচ পুলিশ বলছে প্রাথমিক চিকিৎসার কথা। পুলিশ ধর্ষকের পক্ষ নিলে আমরা কার কাছে যাব?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শুভ আহম্মেদ বলেন, মেয়ের মায়ের কথায় তো আর ধর্ষণ লেখা যায় না, মেয়ে বলছে ওর কিছু হয়নি। কোনো প্রমাণ নেই। এ জন্য ধর্ষণচেষ্টা লেখা হয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাদীকে না জানিয়ে মামলার এজাহার বদলে দেওয়ার প্রসঙ্গে এসআই শুভ বলেন, ‘আমি এজাহার বদলাইনি। বাদী নিজেই পরবর্তীতে এটি সংশোধন করেছেন। সেখানে তার স্বাক্ষরও আছে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কথামতো সাদা কাগজসহ বেশ কিছু কাগজে স্বাক্ষর করার কথা স্বীকার করে মামলার বাদী বলেন, পড়াশোনা না জানায় কখন কোথায় স্বাক্ষর করেছি, সেটা আমি জানি না। তবে এসআই যা বলেছেন, আমি তাই করেছি।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির বড় ভাই বলেন, মামলার পর থেকে আমাদের কোনো সহযোগিতা করেনি পুলিশ। উল্টো মামলার এজাহার বদলে ফেলেছেন এসআই শুভ। বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আসামির অবস্থান জানানো হলেও গ্রেপ্তার করেননি। উল্টো বলেছেন, আসামিকে যেন চোখে চোখে রাখা হয়। পরবর্তীতে আমি নিজেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা-পুলিশের সহায়তায় আসামিকে ধরে ফতুল্লা থানা-পুলিশে সোপর্দ করি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) জাসমিন আহমেদ বলেন, বাদীকে না জানিয়ে মামলার এজাহার পরিবর্তন করা আইনবিরোধী।

শিশুটির পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী।

জানতে চাইলে ফতুল্লা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি যদি মামলার এজাহার বদলে দেন তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।