জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিরুদ্ধে গত বছর যৌন হেনস্তা ও নির্যাতনের ২৫৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস নিজে এই অভিযোগের ব্যাপারে মুখ খুলেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এই রিপোর্টে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা পড়া বিভিন্ন অভিযোগের বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর মধ্যে জাতিসংঘের সরাসরি কর্মীদের বিরুদ্ধেই ১৪৮টি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের অধীন অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের বিরুদ্ধে ১১১টি অভিযোগ জমা পড়েছে।
২০১৭ সালে এই অভিযোগের সংখ্যা ছিল ১৩৮ এবং ২০১৬ সালে ছিল ১৬৫। বিগত দুই বছরের তুলনায় ২০১৮ সালে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বেড়েছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরে। জাতিসংঘ এই অবস্থার উন্নয়নে কর্মীদের মধ্যে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বাস্তবে তা কোনো কাজে দিচ্ছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনাকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিমালার আওতায় আনা হলেও প্রতি বছর এমন ঘটনার সংখ্যা বাড়ছেই।
তবে সব অভিযোগ এখনো তদন্ত করে দেখা হয়নি বলেও রিপোর্টে বলা হয়। অনেক অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তাধীন অভিযোগগুলোর মধ্যে জাতিসংঘের শান্তি মিশন ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত কিছু সদস্যের নাম রয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, আফগানিস্তান, হাইতি, ভারত, ইরাক, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান এবং সিরিয়ায় কর্তব্যরত জাতিসংঘের কর্মীদের মধ্যে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সর্বাধিক। তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিগত বছরগুলোতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে শান্তি মিশনে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ক্রমশ কমছে। ২০১৮ সালে শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে ৯৪টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে অবস্থার উন্নয়নে বোঝা যাচ্ছে জাতিসংঘের কর্মীদের সঙ্গে হামলার শিকার মানুষদের সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা উদ্যোগী হয়ে অভিযোগ করছেন।