ক্রাইস্টচার্চের সেই ঘটনা বহু মানুষের জীবনভাবনা চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছে। মসজিদে গত শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য সমবেত মুসল্লিদের ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল এক শেতাঙ্গ বন্দুকধারী। সেই আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ জন নিরপরাধ মানুষ। অল্পের জন্য সেদিন হামলা থেকে রক্ষা পান বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। তাদেরও জুমার নামাজ আদায়ের জন্য সেই মসজিদে যাওয়ার কথা ছিল। মসজিদ থেকে ২০ মিটার দূরে বাংলাদেশ দলের টিমবাস থামার পর তামিম ইকবালরা ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন। নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ছিলেন সুনীল যোশিও। ঘটনার সময় তিনি টিম হোটেলে ছিলেন। দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট ফোন করে তাকে গোলাগুলির ঘটনা জানান। বাংলাদেশ দলের স্পিন কনসালট্যান্ট যোশি গতকাল টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এ সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমাদের দলের টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ ফোন করে প্রথমে এই ট্র্যাজেডি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, এখানে গোলাগুলি চলছে। আমরা কেউ যেন টিম হোটেল ছেড়ে না বেরোই।’
ঘটনার পর যোশি নিজের দেশ ভারতে ফিরে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ঘটনার পর যেভাবে দেখেছেন সে সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘পুরো ঘটনা আমাদের সবাইকে বিধ্বস্ত করেছিল। আমি কয়েকজনের সঙ্গে তখন টিম হোটেলে ছিলাম। মধ্যাহ্নভোজের পর আমাদের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।’ কিন্তু ঘটনা প্রবাহের জেরে ক্রাইস্টাচার্চ টেস্ট বাতিল হয় এবং বাংলাদেশ দল হোটেলে ফেরে। সেখানে কী দৃশ্য দেখেছিলেন যোশি তা নিয়ে বলেছেন, ‘তারা (হোটেলে ফিরে) পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল। রাস্তায় মৃত এবং আহত রক্তাক্ত মানুষের দৃশ্য তারা ভুলতে পারছিল না। সবাই ফেরার পর আমরা টিমরুমে মিলিত হলাম। মধ্যরাত না পেরোনো পর্যন্ত কেউ তাদের রুমে ফেরেনি।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তামিম ইকবালের ভাষ্য থেকে বাংলাদেশ এরই মধ্যে জেনে গেছে কীভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে ঘটনার মানসিক অভিঘাত থেকে দল এখনো বের হতে পারেনি জানিয়ে যোশি বলেন, ‘দল কী পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গেছে তা বলা খুব কঠিন। সব ক্রিকেটার ও স্টাফরা মানসিকভাবে ট্রমার মধ্যে চলে গিয়েছে। এখান থেকে বের হতে তাদের অনেক সময় লাগবে। সর্বোপরি সময়ই এটা থেকে আরোগ্যের সেরা উপায়।’