সারা দেশে যখন দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে, তখন আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত গোপালগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে দলীয় প্রতীক ছাড়াই। সারা দেশের তুলনায় এ জেলায় আওয়ামী লীগের ভোটার বেশি হওয়ায় এবারের উপজেলা নির্বাচনে জেলার ৫টি উপজেলায় নির্বাচন উন্মুক্ত করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রধানের এমন সিদ্ধান্তে খুশি ভোটার, প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা। নির্বাচন উন্মুক্ত হওয়ায় ভোট উৎসবের আশা করছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।
এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে হচ্ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। তবে গোপালগঞ্জের কোনো প্রার্থীই নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে উপজেলা নির্বাচনের দুটি ধাপের ভোট। তৃতীয় ধাপে ১২৭ উপজেলায় ভোট হবে আগামী ২৪ মার্চ। এদিন অন্যান্য উপজেলায় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এ জেলার ৫টি উপজেলায় দলীয় প্রতীক ছাড়াই স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফার রহমান বাচ্চু, কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবুর রহমান হাওলাদার, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুল শেখ ও সোলায়মান বিশ্বাস বলেন, গোপালগঞ্জের ৫টি উপজেলায় এবার ভোট উৎসব হবে। উন্মুক্ত নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের যেমন কদর বেড়েছে। তেমনি ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে রয়েছে উৎসব আর নির্বাচনী আমেজ। দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে ভোটাররা অপেক্ষাকৃত ভালো সাড়া দিচ্ছেন বলে মত দেন অন্যান্য চেয়ারম্যান প্রার্থী।
ভোটাররা জানান, গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলায় নির্বাচন উন্মুক্ত করায় তারা খুশি। আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা নির্বাচনও দলীয় প্রতীক ছাড়া উন্মক্ত করার দাবি তাদের।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা ও গোপালগঞ্জে প্রায় শতভাগ ভোটার আওয়ামী লীগের হওয়ায় দলীয় প্রধান ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জেলার সব উপজেলায় নির্বাচন উন্মুক্ত করেছেন।
গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলা বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ৯৯ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। যেহেতু এখানে অন্য কোনো দলের অবস্থান নেই, সে কারণেই দলীয় প্রধান নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
জেলার ৫ উপজেলায় মোট ভোটার ৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৫ জন। ৫টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১৯ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২৮ জন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।