বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর বেড়েছে সন্ত্রাসী হামলা: গবেষণা

গত ২০১১ সাল থেকে পুরো বিশ্বে মুসলিমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।  ‘অ্যান্টি-মুসলিম, রেসিস্ট টেরর অ্যাটাক রাইজিং ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ শিরোনামে একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদলু। এতে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে মুসলিমরা।

পর্যবেক্ষক গ্রুপ তেল মামার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সালে মুসলমানদের ওপর রেকর্ড সংখ্যক সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে। সে বছর লন্ডনের ফিনসবারিতে দুটি মসজিদের বাইরে হামলা চালিয়ে আকরাম আলি নামে এক মুসল্লিকে হত্যা করে ড্যারেন ওসবোর্ন নামে এক খ্রিস্টান চরমপন্থী।

সে বছর ১২০১টি ঘটনা যাচাই করে তেল মামা তাদের বার্ষিক রিপোর্টে দেখায়, মুসলমানদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটিই এখন পর্যন্ত লন্ডনে বেশি সংখ্যক ঘটনা।

স্টাডি অব টেররিজম অ্যান্ড রেসপন্সেস টু টেররিজম (এসটিএআরটি) এর গবেষকরা এবিসি চ্যানেলকে বলেন, ২০১৭ সালেই বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে মুসলিমরা।

একই বছর কানাডায় কুইবেক ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে এক খ্রিস্টান সন্ত্রাসীর হামলায় নিহত হন ছয়জন মুসলিম।

২০১৫ সালে সুইডেনে ডানপন্থী খ্রিস্টান সন্ত্রাসী হত্যা করে একজন সহকারী শিক্ষক ও একজন অভিবাসী শিক্ষার্থীকে।

জার্মানিতে ২০১৬ সালে শরণার্থী হোস্টেলে বিশেষ করে সিরীয় শরণার্থীদের ওপর সাড়ে তিন হাজার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এসটিআরটির নির্বাহী পরিচালক উইলিয়াম ব্রানিফ বলেন, পরিসংখ্যান মতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই এসব হামলা বেশি হচ্ছে। এতে হামলার শিকারও মুসলিমরা।

তবে গবেষকরা জানাচ্ছেন, বিশাল সংখ্যক মুসলমান জনগোষ্ঠী সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে শুধু তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে, সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে মুসলমানদের ওপর যেভাবে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যা করলো।

জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার গবেষকরা দেখান, অন্যদের তুলনায় মুসলিমদের দ্বারা সংঘটিত হামলাই সংবাদমাধ্যমে ৩৫৭ শতাংশ বেশি প্রচার পায়।