প্রচলিত ডানপন্থি বর্ণবাদী মতাদর্শকে প্রতিহত করতে বৈশ্বিক লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি এমন লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর এই প্রথম বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দেন প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন। এ সময় তিনি অভিবাসনের হার বেড়ে যাওয়াই বর্ণবাদকে উসকে দিচ্ছে এমন ধারণাকেও প্রত্যাখ্যান করেন। নিউজিল্যান্ড অভিবাসীদের স্বাগত জানায়। শরণার্থীদের গ্রহণ করার বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের নীতির পক্ষেও দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এ সময় তিনি ডানপন্থি জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অস্ট্রেলীয় নাগরিক ঘটনাটি ঘটালেও নিউজিল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিককে অপমান করে এমন আদর্শ যে এখানেও নেই তা বলতে পারছি না আমি। এই আদর্শকে সমূলে বিনষ্ট করতে হবে যেখানেই এই মতাদর্শ মাথাচাড়া দেবে। একই সঙ্গে এমন অবস্থা সৃষ্টির পরিবেশও যাতে কখনো তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি সন্ত্রাসবাদকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, ‘অন্য কোথাও বড় হয়ে ওঠা ও সেখানকার মতাদর্শকে ধারণকারী ব্যক্তির সহিংস কর্মকাণ্ডের বলি হয়েছে নিউজিল্যান্ড। আমরা যদি আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপদ, সহিষ্ণু ও সম্মিলিত জগৎ নিশ্চিত করতে চাই, তবে সীমানার মধ্যে আটকে থেকে তা চিন্তা করা যাবে না।’
বিবিসির মতে, নিজ দেশে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে অন্য কোনো নেতা আরডার্নের মতো সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারতেন কি না তাতে সন্দেহ রয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি হিজাব পরে নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়ান এবং পার্লামেন্টে ইসলামি রীতি অনুসরণ করে ভাষণ দেন।