হোটেলে উঠে গোপন ক্যামেরার শিকার ১৬শ’ ব্যক্তি

দক্ষিণ কোরিয়াতে হোটেল রুমে অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ভিডিওতে ধারণ করা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভিডিওগুলো দেখার ‍সুযোগ পেতো গ্রাহকেরা।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, এ ঘটনার শিকার হয়েছেন হোটেলের অন্তত ১৬শ অতিথি। এ পর্যন্ত চার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।‌

এভাবে একের পর এক গোপন ভিডিও ধারণ এবং তা ফাঁস হওয়ার ঘটনায় পুরো দক্ষিণ কোরিয়া জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রতিক সময়ে। ২০১৮ সালে রাজধানী সিউলে কয়েক দফা বিক্ষোভ হয় এবং আন্দোলনকারীরা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবার কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

জানা যায়, ছোট আকারের ক্যামেরা ব্যবহার হয় এ কাজে। এগুলো হোটেল কক্ষের টেলিভিশন, চুল শুকানোর হেয়ার ড্রায়ারের হাতল ও প্লাগের সকেটে অভিনব কায়দায় বসানো হতো। এক মিলিমিটার লেন্স ক্যামেরা হওয়ায় অতিথিদের কেউই টের পাননি যে অজান্তেই শিকার হচ্ছেন পর্নোগ্রাফির।

এসব ভিডিও থেকে দুষ্কৃতকারীরা ৬ হাজার ২শ ডলারের মতো আয় করতো বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার চার সন্দেহভাজন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেককে ১০ বছর পর্যন্ত জেল, সঙ্গে কয়েক হাজার ডলার জরিমানা করা হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় যৌনমিলন এবং নগ্ন দৃশ্য গোপনে ক্যামেরায় ধারণের ঘটনা মহামারি আকারে বেড়ে গেছে।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, দুষ্কৃতকারীরা গত বছরের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার ১০টি শহরের অন্তত ৩০টি হোটেলে মিনি ক্যামেরাগুলো স্থাপন করেছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

গত নভেম্বরে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় যেখানে সেই গোপনে ধারণকৃত ফুটেজগুলো ছাড়া হয়। ভিডিওগুলোর প্রথম ৩০ সেকেন্ড বিনা মূল্যে দেখার সুযোগ পান ব্যবহারকারীরা। এরপরের পুরো দৃশ্য দেখতে তাদের টাকা দিতে হতো।

দুষ্কৃতকারীরা এ পর্যন্ত ৮শ'র বেশি ভিডিও ওই ওয়েবসাইটে পোস্ট করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরও জানায়, এই মাসেই ওয়েবসাইটটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তার আগ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিরা ৯৭ জন পেয়িং মেম্বারদের থেকে নিয়মিত আয় করতো।

দক্ষিণ কোরিয়াতে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও প্রচার করা অবৈধ। তা সত্ত্বেও দেশটির দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধার কারণে গোপনে চিত্রগ্রহণের হার ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হয়।

অনেক ভিডিও পোশাক পরিবর্তন কক্ষে এমনকি টয়লেটেও গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে।

আবার অনেক ক্ষেত্রেই প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকা প্রতিশোধের বশবর্তী হয়ে এসব ভিডিও ওয়েবসাইটে ছেড়ে দেয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০১৭ সালে এই ধরনের গোপন ভিডিও ধারণের ছয় হাজার অভিযোগ পুলিশের কাছে জমা পড়ে। ২০১২ সালে এই ধরনের অভিযোগের সংখ্যা ছিল আড়াই হাজারের কাছাকাছি।

২০১৭ পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোপন ক্যামেরা সংশ্লিষ্ট অপরাধের জেরে সাড়ে পাঁচ হাজার সন্দেহভাজনকে আটক করে। তবে এর মধ্যে দুই শতাংশেরও কম মানুষের কারাদণ্ড নিশ্চিত করা গেছে।