ভোটের রাতে সুবর্ণচরে ধর্ষণ: মূল আসামি রুহুল আমিনের জামিন

ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনার মূল আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা রুহুল আমিনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আসামির করা আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মো. মামনুন রহমান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ তাকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত রায়। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আশেক ই রসুল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশ্বজিত রায় বলেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবী ১২ মার্চ তাদের আবেদনটি আমাদের সরবরাহ করে। এতে যে আদালতে তারা জামিন শুনানির বিষয়টি উল্লেখ করেছিল পরবর্তীতে সেই বেঞ্চে এটি উপস্থাপন না করে হাইকোর্টের এই বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করে। কিন্তু বিষয়টি আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আমাদের অবগত করেনি। অনেকটা ধোঁয়াশার মধ্যে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা একটি আদালতের কথা বলে অন্য আরেকটি আদালতে এটি উপস্থাপন করে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরই আমরা আপত্তি জানাই। শুনানির দিন আমরা জামিন আবেদনের বিরোধিতাও করি। শুনানি নিয়ে আদালত রুহুল আমিনকে জামিন দেয়।’

বিশ্বজিত রায় বলেন, ‘হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আমরা আপিল বিভাগে আবেদন করব। আমাদের মতামতসহ আবেদনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।’

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ ও তার স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন ওই নারীর ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বিষয়টি জেনে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় সুবর্ণচরের আওয়ামী লীগ নেতা ও ৫ নম্বর চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রুহুল আমিন।

এরপর ওই রাতে রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ১০ জন মিলে ওই গৃহবধূর বাড়িতে  গিয়ে তার স্বামী ও সন্তানদের বেঁধে রেখে তাকে বাইরে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় ওই গৃহবধূর স্বামী ও সন্তানদের পিটিয়ে জখম করে।

সকালে নির্যাতিতা নারীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই নারীকে গণধর্ষণ ও পিটিয়ে জখম করার আলামত পাওয়ার কথা জানান হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

৩১ ডিসেম্বর ওই নারীর স্বামী চরজব্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু বর্বরোচিত এ ঘটনায় যার ইন্ধন ও নেতৃত্বে হয়েছে সেই রুহুল আমিনকে কৌশলে মামলায় আসামি না করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক তাকে রেহাই দেওয়া হবে না। সমালোচনার মুখে ২ জানুয়ারি গভীর রাতে রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। ৪ জানুয়ারি তাকে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।