আন্তর্জাতিক এনজিও ফোরাম বাংলাদেশ সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের এক বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক এনজিও ফোরাম বাংলাদেশের পক্ষে ‘অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ’ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়- “এনজিওরা রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে আনা ত্রাণ সাহায্যের প্রায় ৭৫ ভাগই নিজেদের স্বার্থে খরচ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ছয় মাসে এনজিওগুলো হোটেলের বিল বাবদ ব্যয় করেছে। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের এই বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই।”
মন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি উদ্বেগের কথাও জানিয়েছে আইএনজিও ফোরাম- “কোন কোন এনজিও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে মর্মেও অভিযোগ উঠেছে। আমরা মাননীয় মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং দেশীয় এনজিও সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্য কর্মসূচিতে সকলের মিশন এক হলেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, পরিচালন পদ্ধতি এবং বাজেট পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন।”
বাংলাদেশে কাজ করা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ফোরাম (আইএনজিও ফোরাম) মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করার পাশাপাশি উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। এসব অভিযোগ জনসমক্ষে নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
বিবিৃতিতে বলা হয়, “আমরা মাননীয় মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আশ্বস্ত করছি যে, রোহিঙ্গা কর্মসূচিতে কর্মরত সকল আন্তর্জাতিক এনজিও আর্থিক নিয়ম-শৃঙ্খলা ও বিধি-বিধান সরকার অনুমোদিত পরিচালন মানদণ্ড অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর ভাবে প্রতিপালন করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর সুনির্দিষ্ট অনুমোদনের প্রেক্ষিতেই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তারিত আর্থিক বিবরণ এবং খাত ওয়ারী বাজেট বিশ্লেষণ করেই সুনির্দিষ্ট প্রকল্প অনুমোদন করেন।”
“আমরা আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো বাংলাদেশ সরকারের সকল বিধি-বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালন করে বিভিন্ন প্রকারের পরিচালন ব্যয় যেমন, পারডিয়েম, বাসস্থান এবং যাতায়াত খরচ মিটিয়ে থাকি। আমরা প্রত্যেকে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত এবং পদ্ধতিগতভাবে এনজিও ব্যুরোর কাছে রিপোর্ট করে থাকি। আমাদের প্রত্যেকের কর্মসূচি স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং আমাদের আর্থিক লেনদেন তালিকাভুক্ত অডিট ফার্ম দ্বারা অডিট করা হয়। বাংলাদেশ আইএনজিও ফোরাম মাননীয় মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আশ্বস্ত করছে যে আন্তর্জাতিক এনজিওরা এ সকল অভিযোগের পাত্র হতে পারে না।”