জয়ের পথে থাকা ব্রাদার্স ইউনিয়নকে রুখে দিয়েছে দুর্বল বিকেএসপি। শেষ ওভারে ২ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলেছে তারা। শেষ দিকে জয়ের জন্য ১৮ বলে ২২ রানের প্রয়োজন ছিল ব্রাদার্সের। দলটির হাতে তখনই ৬ উইকেট। এমন অবস্থায় যে কেউ বলবে ব্রাদার্সই জিতবে। কিন্তু বাজি পাল্টে দিল বিকেএসপির বোলাররা। শেষ তিন ওভারে ব্রাদার্সের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে আটকে দিয়েছে দলটিকে। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৬৭ রান তুলেছিল বিকেএসপি। জবাবে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৬৫ রান তোলে ব্রাদার্স। এতে টুর্নামেন্টে তৃতীয় হার হজম করে দলটি। আর বিকেএসপি তুলে নেয় দ্বিতীয় জয়।
৪৮ ও ৪৯ দুই ওভারে মাত্র ১০ রান নিতে পারে ব্রাদার্স। হারাতে হয় ৩ উইকেট। তাই শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১২ রান করতে হতো দলটিকে। নিজেরাই নিজেদের চাপে ফেলায় শেষ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৯ রানের বেশি নিতে পারেনি মোহাম্মদ শরিফরা। বিকেএসপির সুমন খান, মুকিদুল ইসলাম ও শামিম হোসেন শেষ ৩ ওভারে অভিজ্ঞ দলটিকে আটকে দেন। এর আগে মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় ভালো সংগ্রহ গড়ে বিকেএসপি। ২৫ রানের ম্যধ্যে শুরুর তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। শামিম হোসেনের ৭১, আকবর আলির ৫৬ ও পারভেজ হোসেন ইমনের ৬৯ তিন হাফসেঞ্চুরিতে আড়াইশ পার করে বিকেএসপি। জবাবে জুনায়েদ সিদ্দিকির ৫২ ও এস জানির ৯৬ রানে জয়ের স্বপ্ন দেখে ব্রাদার্স। কিন্তু ৩৪ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলা শরিফুল্লাহ শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেননি। এতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ছয় নম্বরে তারা। আর বিকেএসপি সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম।
এছাড়া খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। আসরের অন্যতম ফেভারিটরা এতে চতুর্থ জয় তুলে নিল। ৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে উঠে এসেছে দলটি। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৫৭ রান তোলে খেলাঘর। জবাবে ওপেনার সাইফ হাসানের সেঞ্চুরিতে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান তুলে বড় জয় পায় প্রাইম দোলেশ্বর। ১৩৪ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ১৩২ বলের গতিময় ইনিংস খেলেন তরুণ সাইফ। আসরে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তার সঙ্গে সাদ নাসিম ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে দুই হাফ সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে খেলাঘর। সাদিকুর রহমান ৫৮ ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৮৬ রান করেন। ২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১১তম দল তারা।
এদিকে লো স্কেরিং ম্যাচে উত্তরা স্পোর্টিংকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে শাইনপুকুর। মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে গেছেন শাইনপুকুরের সাব্বির হোসেন। তরুণ ওই ব্যাটসম্যান ৭২ বলে ৯৯ রান করেন। তার ইনিংসেই ২ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ তুলে জয় নিশ্চিত করে শাইনপুকুর। এর আগে ক্যারিয়ারের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ খেলতে নামা মিনহাজুল আবেদিনের ৫১ রানে ১৪৫ রানের সংগ্রহ গড়ে উত্তরা। দুই দলই পয়েন্ট তালিকার তলানিতে আছে। উত্তরা সর্বশেষ (১২তম) ও শাইনপুকুর দশম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বিকেএসপি-ব্রাদার্স
বিকেএসপি: ২৬৭/৯ (৫০ ওভার) (শামিম ৭১, ইমন ৬৯, আকবর আলি ৫৬; শরিফ ৩/৬৫, ইবাদত ২/৫৭)। ব্রাদার্স: ২৬৫/৯ (৫০ ওভার) (জানি ৯৬, জুনায়েদ ৫২, শরিফুল্লাহ ৪২*; মুকিদুল ৪/৪২, শামিম ২/৪৩)। ফল : বিকেএসপি ২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : শামিম হোসেন।
খেলাঘর-প্রাইম দোলেশ্বর
খেলাঘর : ২৫৭/৯ (৫০ ওভার) (মাহিদুল ৮৬, সাদিকুর ৫৮, মেনারিয়া ২১; রেজা ৩/৫২, সৈকত ২/৪৩, আবু জায়েদ ২/৫৩)। প্রাইম দোলেশ্বর : ২৫৮/৩ (৪৬.৪ ওভার) (সাইফ ১৩২*, মার্শাল ৪০, সাদ ৩৪*; ইফতেখার ১/১৮, রবি ১/২৭)। ফল : প্রাইম দোলেশ্বর ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : সাইফ হাসান।
উত্তরা-শাইনপুকুর
উত্তরা : ১৪৫ (৪৪.৪ ওভার) (মিনহাজুল ৫১*, তানজিদ ২৫; সাব্বির হোসেন ৩/২৭, রাকিবুল ২/১৮)। শাইনপুকুর : ১৪৯/২ (২৫.১ ওভার) (সাব্বির হোসেন ৯৯, সাদমান ৩৮)। ফল : শাইনপুকুর ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : সাব্বির হোসেন।