ক্যাবিনেট অফিসের নথি ফাঁস

চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে গোপন পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট অফিসের ব্রেক্সিট সংক্রান্ত একটি গোপন নথি ফাঁস হয়েছে। কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট বিষয়ক পরিকল্পনা এবং যুক্তরাজ্যের সরকারি দপ্তরগুলোতে সৃষ্টি হতে পারে এমন ঝামেলার প্রসঙ্গ ওই নথিতে জায়গা পেয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

অপারেশন ইয়েলোহ্যামার নামক ওই নথিতে বলা হয়, ‘শীর্ষ পর্যায় থেকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলে পুরো শাসন কাঠামো খুব দ্রুত পতন হতে পারে। চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ফলে অভাবিত এমন ইস্যুর সৃষ্টি এবং প্রভাব পড়তে পারে যা অপারেশন ইয়েলোহ্যামার এখনই বলতে পারছে না।’ এই নথির ফলে বোঝা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মের তৃতীয় দফায় পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপনের তোয়াক্কা না করেই গোপনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, যা যুক্তরাজ্যকে বাজে পরিস্থিতিতে ফেলতে পারত।

ফাঁস হওয়া নথিতে সেন্ট্রাল ডেইলি রিদম শীর্ষক একটি ফ্লো চার্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার অনেক মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করা হয়, যারা এই পরিকল্পনার পেছনে রয়েছেন। অপারেশন ইয়েলোহ্যামারের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানায়, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট অনেক সময়সাপেক্ষ। কারণ হিসেবে ওয়েস্ট মিনস্টারের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে তুলে ধরা হয়। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হোয়াইট হলের নিচে একটি বাংকার (পরিখা) খনন করেছে ব্রেক্সিট পরবর্তী কোনো সেনা অসন্তোষের সম্ভাবনা মাথায় রেখে। বিশ্লেষকরা জাতীয় জীবনে প্রয়োজনীয় উপাদানের মধ্যে সবকিছুর স্বল্পতা রেখে কীভাবে যুক্তরাজ্য চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের দিকে ধাবিত হবে তা নিয়ে সন্দিহান। উল্লেখ্য, দেশটিতে ওষুধ, খাবার এবং টয়লেট পেপারের সংকট এরইমধ্যে শুরু হয়েছে।

নথিতে জরুরি অবস্থার মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল পন্থার বাইরে আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চালানোর পরিকল্পনাও করা হয়। উদ্ভূত সমস্যার মধ্যে হোয়াইট হলকে সমন্বয়ের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর রাখারও পরিকল্পনা করা হয় নথিতে। এ ছাড়া নথিতে সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থাকে অবশ্যই নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্রেক্সিট পরবর্তী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাত, খাবার এবং পানি সরবরাহের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিশেষভাবে নজর দেওয়ারও সুপারিশ করা হয় নথিতে।