স্বেচ্ছায় ডাকসু নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী আট শিক্ষকের শাস্তির দাবি তোলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জন শিক্ষক।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট কমিটির শাস্তি দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে এর ধিক্কার জানান। ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বিবৃতিটি পাঠান।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম যে, গত ১৮ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষক দল নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ডাকসু নির্বাচনে অননুমোদিতভাবে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বাচন সম্পর্কে অসত্য তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে আট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপাচার্যের কাছে দাবি জানায় প্রভোস্ট কমিটি। গণমাধ্যমে এ সংবাদ পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমরা মর্মাহত।
স্বতঃপ্রণোদিত স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করে হল প্রভোস্টরা নিজেদের নৈতিক দেউলিয়াপনা ও ভিন্নমতের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। এছাড়া বিবৃতিতে শিক্ষকরা দাবি করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমত সবসমই ছিল ও থাকবে। এটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য। ভিন্নমতের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যে হুমকি দিয়েছেন তার জন্য ধিক্কার জানাই। অবিলম্বে প্রশাসন এ আটজন শিক্ষকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করবে আমরা সেই দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নৈতিক পরাজয়ের জের আরও বহুবছর টানতে হবে।
ইমেইল ও ফেসবুক মারফত পাঠানো বিবৃতিতে সহমত প্রকাশকারী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাবেরী গায়েন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামসুল আরেফিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবর্ণা মজুমদার প্রমুখ।