চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গুরা মিয়া নামে এক বৃদ্ধ তার তিন ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। কৌশলে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ এনে হাটহাজারী মডেল সরকারি পার্ব্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এ নৈশপ্রহরী চট্টগ্রামের যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালতে মামলাটি করেন।
জানা যায়, উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দুলা মিয়া সারাং-এর পুরাতন বাড়ি প্রকাশ গিয়াস চেয়ারম্যানের বাড়ির গুরা মিয়ার চার ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। চার ছেলে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। গুরা মিয়া পুত্রবধূদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে বাস করতেন। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী মারা গেলে পুত্রবধূরা তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না।
এক সময় ২০১৫ সালে বাড়িতে অবস্থানকারী এক পুত্রবধূর খারাপ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তার বিবাহিত বড় মেয়ের সহায়তায় প্রবাসী বড় ছেলে হোসাইনুর রশিদ হোসেনের হাটহাজারী পৌরসভার বাসায় চলে আসেন।
তিনি বাসায় চলে আসার পর বড় ছেলের ভাগের অংশের গাছ ও ফলমূল আনতে গেলে অন্য পুত্রবধূরা বিশেষ করে জামাল উর রশিদ আজিমের স্ত্রী বাধা দেন।
এ ঘটনায় গুরা মিয়ার বড় ছেলের ঘরের নাতি সাজ্জাদ হোসেন অলভি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ নং ৬৩৫। এরপর গুরা মিয়া জানতে পারে তার সম্পত্তি তিন ছেলে যথাক্রমে জামাল উর রশিদ আজিম, মো. মাহাবুব রশিদ ও হাফেজ মো. জাহেদুর রশিদ নিজেদের নামে কৌশলে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। বৃদ্ধ বাবাকে অক্ষরজ্ঞানহীন ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দেখিয়ে তারা বাবার ১৭ কাঠা সম্পত্তি লিখে নেন।
তিনি বিষয়টি অবহিত হয়ে সম্পত্তি ফেরত পেতে তিন ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। গুরা মিয়া ছেলেদের কর্তৃক প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি আদালতে মামলা ছাড়া ও মেখল ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন চৌধুরীর কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে গুরা মিয়ার নাম স্বাক্ষর রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রতারিত গুরা মিয়ার কাছে হাটহাজারী পৌরসভাস্থ বড় ছেলের বাসায় গিয়ে জানতে চাইলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, দীর্ঘদিন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না।
নাম স্বাক্ষর করে তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন উত্তোলন করেছেন। তার নামে সোনালী ব্যাংক হাটহাজারী শাখায় একটি সঞ্চয় হিসাব রয়েছে। বিদেশ থেকে তার বড় ছেলে তার নামে এ একাউন্টে টাকা পাঠাতেন। তিনি চেকে স্বাক্ষর করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতেন।
কাজেই তার ছেলেদের তিনি দ্বারা অক্ষর জ্ঞানহীন বলে দলিলে টিপসই সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন।
গুরা মিয়ার মামলার তদন্তকারী চট্টগ্রাম সিআইডি অংগুলাংক বিশারদ, অংগুলাংক শাখা ফরেনসিক ল্যাব কর্মকর্তা মো. আনোয়ার কামাল আদালতে প্রেরিত তার তদন্ত প্রতিবেদনে সাদা কাগজে নেওয়া মোহাম্মদ গুরা মিয়ার বামও ডান হাতের বৃদ্ধাংগুলের নমুনা ছাপগুলো আংশিক, অত্যধিক কালিতে ল্যাপ্টানো, খুবই ঝাপসা ও অস্পষ্ট তুলামূলক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রেখা বৈশিষ্ট্য বুঝা যায় না বিধায় উহাদের পরস্পর তুলনামূলকভাবে পরীক্ষা করে সুনির্দিষ্ট মতামত প্রদান করা সম্ভব হল না বলে উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্রাট খীসার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলিল দেখে নামজারি করা হয়েছে। তবে মামলার মাধ্যমে যদি দলিল মিথ্যা প্রমাণিত হয় সহকারী কমিশনার কার্যালয়ে আসলে পুনরায় সংশোধন করে দেওয়া যাবে।