ব্যাংকার হতে চায় ফেসবুকে ভাইরাল কক্সবাজারের মেয়েটি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল কক্সবাজারের মেয়ে রাফিয়া আফরিন কানিজ অবশেষে সব বাধা ভেঙে শনিবার স্কুলে গিয়েছেন।

ফেসবুকে রাফিয়ার একটি হাসির ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ঘর থেকে বের হতে পারছিল না সে। পরিচিতি পাওয়ার কারণে অনেকেই তার সঙ্গে কথা বলতে ও ছবি তুলতে চাপ দিতে শুরু করে।

ফুল ও ঝিনুক কুড়িয়ে সংসারের হাল ধরা মেয়েটি উপার্জনও বন্ধ হয়ে যায়। তবে বাধা পেরিয়ে নিজেই স্কুলে যায় দশ বছরের মেয়েটি।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তার স্কুল কক্সবাজারের কলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস করে রাফিয়া।

কক্সবাজার সদরের ঝিলংঝা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কলাতলীর ঝিরঝিরি পাড়ায় তার বাড়ি। সে ওই এলাকার দরিদ্র আবদুল করিমের কন্যা রাফিয়া। বাবা দিনমজুর, মা রহিমা বেগম গৃহিণী। রাফিয়ার বয়স মাত্র ১০ বছর। পরিবারে চার ভাই-বোনের মধ্যে রাফিয়া মেজ। বাবা আব্দুল মালেক নির্মাণকাজ করতে গিয়ে পড়ে কোমরে আঘাত পান।

কক্সবাজার সদরের ঝিলংঝা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কলাতলীর ঝিরঝিরি পাড়ায় তার বাড়ি। সে ওই এলাকার দরিদ্র আবদুল করিমের কন্যা রাফিয়া। বাবা দিনমজুর, মা রহিমা বেগম গৃহিণী। রাফিয়ার বয়স মাত্র ১০ বছর। পরিবারে চার ভাই-বোনের মধ্যে রাফিয়া মেজ। বাবা আব্দুল মালেক নির্মাণকাজ করতে গিয়ে পড়ে কোমরে আঘাত পান।

এরপর থেকে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। বাবার এমন পরিস্থিতিতে সৈকতে ঝিনুক ও ফুল বিক্রি করে পরিবারে খরচ যোগাত রাফিয়া। 

রাফিয়ার চাচা মহিউদ্দীন জানান, ফেসবুকে ছবি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে রাফিয়া ঝিনুক নিয়ে সৈকতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। একই ভাবে স্কুলেও যাচ্ছে না। আপাতত রাফিয়া অনেকটা ঘরবন্দী।

মা রহিমা বেগম জানান, রাফিয়ার বাবা অসুস্থ হওয়ার পর শিশু কন্যাকে ঝিনুক নিয়ে সৈকতে পাঠাতো। সে ঝিনুক বিক্রি করে যা আয় করতো তা দিয়ে চলতো তাদের সংসার। সে প্রতিদিন তিন থেকে চার শ টাকা আয় করত।

শনিবার রাফিয়া বলে, ‘আমি ব্যাংকার হতে চাই। আমার স্বপ্ন আমি ভঙ্গ হতে দেব না। তাই আমি আজ থেকে প্রতিদিন স্কুলে আসব।’

এ সময় রাফিয়ার বাবা আব্দুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজের ইচ্ছায় শত প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে স্কুলে গেছে রাফিয়া। আশা করছি সব ভুলে গিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাবে সে।’