নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় ভোটার উপস্থিতি ছিল খুব কম। দৌলতপুর, মিরপুর, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া, কুমারখালী ও খোকসার ৬১১ ভোটকেন্দ্রে ভোটের আয়োজন থাকলেও ছিল না ভোটার।
রবিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নানা ঘটনায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির স্বল্পতা, শূন্যতা, কেন্দ্রে দখলের অভিযোগে প্রার্থীর ভোট বর্জন ছাড়াও প্রকাশ্যে সিলমারা, ভোট জালিয়াতির অভিযোগে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার প্রত্যাহারের ঘটনাও ঘটেছে।
খোকসা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মাফখারা তাসনীন জানান, উপজেলার একটি কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ ও জাল ভোটের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার প্রকাশ কুমার ভৌমিককে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোটার না থাকায় দিনব্যাপী ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রে নিরাপত্তা কর্মীরা খোশগল্পে ব্যস্ত। কোথাও নিরাপত্তাকর্মীদের ছাগল চরাতেও দেখা গেছে। গণমাধ্যমের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা নিজ জায়গায় ফিরে যান। কিছু কেন্দ্রে গণমাধ্যমের ক্যামেরা দেখে কৃত্রিম ভোটারের দীর্ঘ লাইন তৈরির ঘটনাও দেখা গেছে।
ভেড়ামারা উপজেলায় জাসদ সমর্থিত মশাল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল আলীম স্বপন বলেন, প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিঠুর সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকায়, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে সাধারণ ভোটারদের হুমকি প্রদান করায় ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আকতারুজ্জামান মিঠু বলেন, এখন আসলে মাঠে প্রচুর কাজ থাকায় কৃষকরা ভোট কেন্দ্রে আসতে পারেনি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান বলেন, ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জেলার ছয়টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।