আবাহনী-মোহামেডান মহারণ আজ

আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের আগে দেশটা আগে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত। ফুটবলে যতটা বেশি হতো ক্রিকেটে হয়তো ততটা না। কিন্তু মাঠে জমজমাট লড়াই দেখতে দর্শক উপস্থিতি থাকত বেশ। এখন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথও সেভাবে দর্শক টানতে পারে না। কিন্তু দুই দলের মধ্যে লড়াইয়ের উত্তাপটা থাকে ঠিকই।

সেই উত্তাপ-উত্তেজনা-রোমাঞ্চ নিয়ে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এবারের ঢাকা লিগের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি আজ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেডের মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। একই দিনে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ফতুল্লায় খেলবে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে। বিকেএসপিতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের প্রতিপক্ষ খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। গাজী দুটি আর খেলাঘর একটি করে ম্যাচ জিতেছে এখন পর্যন্ত।

আবাহনী-মোহামেডানের এই ম্যাচটি শুধু দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। লিগ শিরোপা লড়াইয়ের রূপরেখা গড়ে দিতে শেষে এই ম্যাচ রাখতে পারে বড় এক ভূমিকা। তারায় ভরা আবাহনী টানা চার ম্যাচ জিতে একমাত্র অপরাজিত দল ছিল। কিন্তু শেষ রাউন্ডে তাদের হারিয়ে দিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ওদিকে টানা তিন ম্যাচ জেতার পরের দুটি হেরেছে মোহামেডান। রূপগঞ্জের পর তাদের শিকার করেছে শেখ জামাল। বোঝা যাচ্ছে, আবাহনী-মোহামেডানের বাইরেও শিরোপার দাবি নিয়ে লড়ার দল আরও আছে।

আবাহনী অবশ্য পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জিতে নেট রানরেটের কারণে এখনো পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। পাঁচ ম্যাচের চারটি করে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক, প্রাইম দোলেশ্বর আর রূপগঞ্জ। তিন জয়ে এই চার দলের পর অবস্থান মোহামেডানের। আজ তাদের সামনে আবাহনী পরীক্ষা আসছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে। কারণ এই দলে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজের মতো জাতীয় তারকারা। মোহামেডানে বড় নাম তুষার ইমরান, রকিবুল হাসান (অধিনায়ক), আবদুল মজিদ, মোহাম্মদ আশরাফুল, শফিউল ইসলাম, নাদীফ চৌধুরী, সোহাগ গাজী।

আবাহনীর খেলোয়াড় তালিকায় চোখ রেখে মাঠে নামার আগেই তাদের সমর্থকরা হারিয়ে দিচ্ছেন মোহামেডানকে। কিন্তু এই মৌসুমে মোহামেডানের কোচের দায়িত্ব নেওয়া সাবেক পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম গতকাল বললেন, ‘ ২০১৯ মোহামেডানের জন্য বড় একটি বছর হতে যাচ্ছে। যদি পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে পারি তাহলে এটা গত তিন-চার বছর থেকে ভিন্ন হবে। সবার জন্য এটা একটা সুযোগ। আর কাল (আজ) যারা ভালো খেলবে তারা জিতবে। ভালো সুযোগ তৈরি করতে হবে।’ টানা দুই হার ভুলে নতুন শুরু চান কোচ মঞ্জু, ‘পেছনে ফিরে তাকালে দলের জন্য ভালো হবে না। আমাদের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পরে নিচে নেমেছে। কালকের (আজ) ম্যাচটা আসলে গ্রাফ তৈরি করে দেবে না। পুরো টুর্নামেন্টের জন্য মাইলফলক হবে ম্যাচটি। এটাই চ্যালেঞ্জ।’

আবাহনী-মোহামেডান মহারণের রোমাঞ্চ স্পর্শ করছে আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনকেও। ‘আসলে সকালে প্র্যাকটিসে আসার পর মনে হয়েছে কাল (আজ) মনে হয় আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ। আবাহনী-মোহামেডান সবসময়ই শুনে আসছি খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা ম্যাচ হয়।’ মোসাদ্দেক মিরপুরে গতকাল বলছিলেন, ‘আমাদের দল ভালো। মোহামেডানও দল হিসেবে ভালো। একটা ম্যাচ হয়তো হেরেছি। তবে আমাদের দল খুব ভালো অবস্থানে আছে। আমরা আসলে ওদের (মোহামেডান) দিকে ফোকাস না করে ম্যাচের দিকে ফোকাস করছি।’

তবে মোসাদ্দেকের একটা আক্ষেপ ঠিকই আছে, ‘এখন অনেক বেশি দর্শক থাকে না।’ আগের প্রসঙ্গ টেনে বলছিলেন, ‘আবাহনীর একটা সাইড থাকত, মোহামেডানের একটা সাইড থাকত। পুরো ঠাসা থাকত গ্যালারি। এখন হয়তো গুটিকয়েক দর্শক থাকে মাঠে। আমরা প্লেয়াররা তাদের মতো খেলি। এভাবেই চলছে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে।’ আক্ষেপ নিয়ে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় কি!

মাঠে হয়তো তেমন দর্শক থাকবে না। কিন্তু বাইশ গজে প্রবল উত্তেজনা ঠিকই থাকবে। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ বলে কথা।