কেনিয়ার গ্রামীণ এলাকার বিজ্ঞানের শিক্ষক পিটার তাবিচি। সুবিধাবঞ্চিত একটি স্কুলে সামান্য কিছু বই নিয়েই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। এই শিক্ষকই পেলেন ২০১৯ সালের ‘গ্লোবাল টিচার প্রাইজ’।
বিবিসি জানায়, ক্যাথলিক চার্চকেন্দ্রিক ধর্মীয় গোষ্ঠী ফ্যান্সিসক্যান-এর সদস্য পিটার তাবিচি বেতনের বেশির ভাগই দিয়ে দেন গরিব ছাত্রদের। বিশ্বের সেরা শিক্ষকের পুরস্কার হিসেবে ব্রাদার পিটার পাচ্ছেন এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কেনিয়ার নাকুরু কাউন্টির ফুয়ানি গ্রামের কেরিকো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পিটার। বেতনের ৮০ শতাংশ গরিব শিক্ষার্থীদের দেন তিনি। তার এই সহায়তা না পেলে ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে স্কুল পোশাক ও বই কেনা সম্ভব হত না। এই শিক্ষার্থীরা খুবই দরিদ্র পরিবারের। তাদের অনেকে এতিম।
বিশ্বের সেরা শিক্ষকের এই পুরস্কার দিয়েছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভারকি ফাউন্ডেশন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ১৭৯টি দেশের ১০ হাজার শিক্ষককে পেছনে ফেলে পুরস্কার জিতেছেন পিটার।
ব্রাদার পিটার জানান, তার স্কুলে অনেক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে, এমনকি পর্যাপ্ত বই ও শিক্ষকও নেই। ভালো ইন্টারনেট সংযোগ নেই, যাতে বিজ্ঞানের ক্লাসের রসদ যোগাড়ে তাকে যেতে হয় সাইবার ক্যাফেতে। অনেক ছাত্র-ছাত্রীই ছয় কিলোমিটারের বেশি হেঁটে স্কুলে আসে।
পিটার জানান, তাকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝাতে হয়। যেসব ছাত্ররা ঝরে যাওয়ার মতো অবস্থায় থাকে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাবা-মাকে বোঝান তিনি।
এই পুরস্কারের প্রবর্তক সানি ভারকি বলেন, “ব্রাদার পিটারের এই গল্প শিক্ষকতায় আসতে আগ্রহীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং কেনিয়াসহ বিশ্বজুড়ে শিক্ষকরা যে অবিশ্বাস্য কাজ করছে তা গুরুত্ব পাবে।”