সিরাজগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন

রেকর্ড কিপারের সুদের কারবারে সর্বস্বান্ত ২০ ব্যবসায়ী

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল) আদালতের রেকর্ড কিপার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুদের ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। তার কারণে সিরাজগঞ্জ শহরের অন্তত ২০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখন ভবঘুরে। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে প্রত্যেকের মাথার ওপরে ঝুলছে একাধিক মামলা। গত রবিবার সকালে শহরের ‘মিডিয়া হোমে’ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে শহরের ‘চারুতা’ কাপড়ের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম রাজু বলেন, ‘আমিনুল ইসলাম আদালতের রেকর্ড কিপারের পাশাপাশি তার নামে মেসার্স গুলে জান্নাত ট্রেডার্স নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স আছে। ওই ট্রেড লাইসেন্সের প্যাড ব্যবহার করে তিনি সুদের ব্যবসা করে থাকেন। আমি ব্যবসা করার জন্য আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে ও সাদা চেক প্রদান করে শতকরা ১৫ টাকা সুদে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। এ পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা সুদ দিয়েছি এবং আসল টাকার মধ্যে ফেরত দিয়েছি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অথচ বাকি টাকার জন্য সে আমার বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকার একটি মামলা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমিনুল ইসলামের সহযোগী চৌহালী সাব-জজ আদালতের জারিকারক এবং বর্তমানে প্রেষণে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (২য়) আদালতের নি¤œমান সহকারী হিসেবে কর্মরত শামিমা আরজু রুনুকে দিয়েও সে ১৮ লাখ টাকা দাবির একটি মিথ্যা মামলা করেছে। পাশাপাশি মাথার ওপরে ঝুলছে দুটি মামলা।’

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাসেল আহম্মেদ বলেন, ‘সুদ-আসলে সব টাকা পরিশোধ করেছি। আর মাত্র ৫০০ টাকা পাবে। তার পরও ওই সাদা স্ট্যাম্প ও সাদা চেক ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে সে দেড় লাখ টাকার জালিয়াতির মামলা করেছে।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরির পাশাপাশি রমরমা সুদের ব্যবসা করে আমিনুল ইসলাম ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও কোটি কোটি টাকার ধন-সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার মালিকানায় ঢাকার ডেমরা এলাকায় একটি, সিরাজগঞ্জ শহরের দিয়ারধানগড়া ও কাজীপুর মোড়ে দুটি, বগুড়ার সেনানিবাস এলাকায় একটি এবং তার নিজ গ্রাম কাজীপুরের সুবর্ণগাতিতে একটি মোট পাঁচটি বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ২৫-৩০ একর জায়গা রয়েছে তার। পাশাপাশি সুদের ব্যবসার টাকা আদায়ের নামে তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা দায়ের করেছেন।

এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে অন্তত আটজন ব্যবসায়ী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়; জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জ; জেলা ও দায়রা জজ, সিরাজগঞ্জ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পত্র দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতের রেকর্ড কিপার ও সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কাউকে হয়রানি করার জন্য নয়, পাওনা টাকা উত্তোলনের জন্য মামলা করেছি।’