স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় ছিল নানা আয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দিনভর অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গত ২৪ মার্চ থেকে শুরু হয় স্বাধীনতা উৎসব। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এই উৎসবে মঙ্গলবার সমাপনী দিনে শতাধিক শিল্পী অংশ নেন। জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের প্রজন্ম বেড়ে উঠুক। কোনো রকম অশুভ শক্তির সঙ্গে আমরা আপোস করব না। এটাই এবারের উৎসবের মূল মন্ত্র।’
বাংলা একাডেমি আয়োজন করে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৫টায় একাডেমির রবীন্দ্র চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, বদরুন্নেসা ডালিয়া ও বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি চত্বরে ২১ মার্চ থেকে শুরু হয় বইমেলা। ২৬ মার্চ বইমেলার সমাপনী আয়োজনে ছিল শিশু একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এবারের মেলায় ৭০টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নেয়। মেলায় ২৫ শতাংশ মূল্যছাড়ে বই বিক্রি করা হয়। স্বাধীনতা দিবস ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী উৎসব আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। মঙ্গলবার আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।
জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘গেরিলা গেরিলা’ এবং ‘রক্তের প্রতিশোধ রক্তেই নেব আমরা’ গানের কথায় নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন লায়লা হাসান। সমবেত সংগীত পরিবেশন করে আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম ও ডালিয়া আহমেদ, একক সংগীত পরিবেশন করেন রফিকুল আলম, আইরিন পারভীন, আল আমিন, নাজিয়া সুলতানা বৃষ্টি, বিউটি, হৈমন্তি রক্ষিত ও সিদ্দিকুর রহমান।
এদিকে সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে ছিল পুলিশ নারী কল্যাণ শিল্পীদের পরিবেশনায় সমবেত নৃত্য ও সমবেত সংগীত, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সমবেত সংগীত। দীপা খন্দকারের নৃত্য পরিচালনায় দিব্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমবেত নৃত্য। এ ছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করবেন শিল্পী লুইপা ও শফি ম-ল।