মাগুরার মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রউফ হত্যার ঘটনায় মহম্মদপুর উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি, এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে মহম্মদপুর শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সভায় অধ্যক্ষ মাওলানা শরীফ আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, এস কে নুরুজ্জামান, রিয়াজুর রহমান, নবীনুজ্জামান, শিউলী ফারুকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। বক্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস বর্জনসহ নানা আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান।
এদিকে আব্দুর রউফ হত্যার ঘটনায় মহম্মদপুর থানায় স্থানীয় বালিদিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পান্নু মোল্লাসহ ১২ জনকে আসামি করে নিহতের ভাই আব্দুল ওহাব মিলন বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
প্রসঙ্গত, প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে সোমবার বিকেলে মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে মারা যান মাগুরার শ্রীপুর কাদিরপাড়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রউফ। তার বাড়ি মহম্মদপুরের বালিদিয়া ইউনিয়নের ঘোষপুর গ্রামে।
নিহতের ভাই আবদুল ওহাব মিলনসহ অন্যদের অভিযোগ, সম্প্রতি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার হাজী মোসলেম উদ্দীন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের গাছ জোরপূর্বক কেটে নেন মহম্মদপুরের বালিদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পান্নু। এ ঘটনায় ওই কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসাবে কলেজের পক্ষ থেকে আবদুর রউফ আদালতে চেয়ারম্যানের নামে মামলা করেন। এতে চেয়ারম্যান পান্নু মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মহম্মদপুরের বড়রিয়া এলাকায় আবদুর রউফের উপর দলবল নিয়ে হামলা চালান। এ সময় আব্দুর রউফ গুরুতর আহত হলে তাকে মাগুরার ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে তিনি মারা যান।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হোসেন জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। এ ছাড়া এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ঘোষপুরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।