রাজ্জাকের দাপুটে বোলিংয়ে প্রাইম ব্যাংকের জয়

যেন তারুণ্যের সেই আব্দুর রাজ্জাক ফিরে এলেন। ৩৬ বছর বয়সী স্পিনার ৮ ওভার বল করে মাত্র ১৫ রান খরচায় নিলেন ৪ উইকেট। করলেন একটি রান আউটও। তার দাপুটে বোলিংয়ে ধসে পড়ল উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের ব্যাটিং মেরুদণ্ড। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব পেল টানা চতুর্থ জয়।

রাজ্জাক ছুঁয়েছেন গড়েছেন দারুণ এক কীর্তিও। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক গড়েছেন এই বাঁহাতি।

বুধবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটে লিগে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবকে বৃষ্টি আইনে ৫৭ রানে হারায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।

বৃষ্টির কারণে ৩৮ ওভারে নেমে এসেছিল ম্যাচ। আগে ব্যাটিংয়ে নামা প্রাইম ব্যাংক ৭ উইকেটে ২৩০ রানের পুঁজি গড়ে। ডাক ওয়ার্থ লুইস আইনে ৩৮ ওভারে ২৪০ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় উত্তরার সামনে। রাজ্জাকের বোলিং তোপে ৮ উইকেটে ১৮২ রানে থেমেছে উত্তরার ইনিংস।

টস হেরে প্রাইম ব্যাংককে এদিন আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল উত্তরা। প্রাইম ব্যাংক ২২.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৮ রান করার বৃষ্টি হানা দেয়। পৌনে ১১টায় বৃষ্টি কারণে ম্যাচ থামার পর ফের ম্যাচ শুরু হয় ১টা ১৫ মিনিটে। ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৩৮ ওভারে।

আল-আমিন, অলক কাপালি ও নাজমুল হোসেন মিলনের ব্যাটে চড়ে প্রাইম ব্যাংক বড় পুঁজিই গড়ে। বৃষ্টির পর ১৫. ৩ ওভারে প্রাইম ব্যাংক তুলেছে ১৩২ রান। উত্তরার পক্ষে সর্বাধিক ৩ উইকেট নেন আনিসুল ইসলাম ইমন।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উত্তরা উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলে ৬৪ রান। ৩৫ রান করা তানজিদ হাসানকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন নাঈম হাসান। এরপর শুরু রাজ্জাকের তোপ। একে একে ফেরান আনিসুল ইসলাম ইমন (৩৩), আবরার আলম (১০), মিনহাজুল আবেদিন (১১), শাখির হোসেনকে (২)।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা উত্তরা অধিনায়ক মোহাইমেনুল খানকে ফেরেন রান আউটের ফাঁদে। তাতে তারুণ্য নির্ভর উত্তরা ১২৬ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয়। এরপর কেবল পরাজয়ের অপেক্ষায় ছিল দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত অল আউট না হওয়াতেই কিছুটা প্রাপ্তি খুঁজতে পারে উত্তরা স্পোর্টিং।

রাজ্জারের ৪ উইকেট ছাড়াও নাঈম নিয়েছেন ২ উইকেট। ম্যাচসেরা হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক।

৬ ম্যাচে এটি পঞ্চম জয় প্রাইম ব্যাংকের। মোট ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে তারা। সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আবাহনী। এদিকে একটি মাত্র জয় নিয়ে উত্তরা টেবিলে সবার নিচে অবস্থান করছে।