ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে ডাকাত ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সন্ধ্যার পর সুযোগমতো অস্ত্রের মুখে সব ছিনিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে তারা।
র্যাব জানায়, চক্রের সদস্যরা অনেক সময় চলন্ত গাড়ি থামানোর জন্য দড়ি ও রোডব্রেকার ব্যবহার করে থাকে। তারা নির্জন রাস্তায় চলন্ত গাড়িতে পেছন থেকে পাথর ছুড়ে মারে, যাতে চালক গাড়ি থামায়। আবার কখনো রাস্তার ওপর দামি মোবাইল ফোন ফেলে রেখে চালককে গাড়ি থামাতে প্রলুব্ধ করে। এর পরও গাড়ি থামাতে ব্যর্থ হলে গাড়ির সামনের গ্লাসে ডিম ছুড়তে থাকে। এতে করে গাড়ির গ্লাসে আবরণ পড়ে গেলে চালক গাড়ি থামাতে বাধ্য হয়। চক্রটি দিনের বেলায় পরিকল্পনা করে সন্ধ্যার পর ডাকাতি করে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গণপরিবহনে রুমাল, শসা, বরই ও আচার বিক্রেতার বেশে সক্রিয় রয়েছে অজ্ঞান পার্টি। সম্প্রতি ডাকাত ও অজ্ঞান পার্টির এমন দুটি চক্রকে আটক করে র্যাব।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টি ও ডাকাত চক্রের সদস্যরা অভিনব পদ্ধতিতে সহজ-সরল মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা দরকার। বিশেষ করে বাইরে খাবার খাওয়া, অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সিএনজি বা রিকশা শেয়ার করা, খুব ভোরে বা সন্ধ্যার পর সড়কে চলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা খুবই জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘র্যাবের একাধিক টিম এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। র্যাবের তৎপরতায় এরই মধ্যে একাধিক চক্র আটকও হয়েছে।’
একাধিক ডাকাতির ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন বলেন, ‘ডাকাত চক্রটি নানা পন্থায় মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। এরা কখনো পুলিশ সাজে। এদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরিচ্যুত অনেকেই যুক্ত থাকে। চক্রে প্রতিটি দলে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য রয়েছে। রাজধানীর নির্জন স্থানে এরা ওত পেতে থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডাকাত চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে অপরাধ জগতের অনেক দাগি আসামি। তারা অপরাধ করেও আইনের ফাঁক দিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যায়।