বাহরাইনে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশকেই দেখা গেছে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই পর্বে। স্বাগতিক বাহরাইন ও শক্তিশালী ফিলিস্তিনের কাছে ন্যূনতম ব্যবধানে হেরে মূল পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও যে অকুতোভয় রূপে প্রকাশ ঘটেছিল লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের, তাতেই আশা বেড়ে গেছে অনেকটা।
শ্রীলঙ্কাকে একপেশে ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে গত রাতে দেশে ফেরার কথা বাংলাদেশ দলের। এখনই এই দলকে বদলে যাওয়া বলতে নারাজ দলটির ইংলিশ কোচ জেমি ডে। তরুণ এই কোচ বাংলাদেশ দলকে পুরোপুরি বদলে দিতে আরও সময় চান। সেটা তিনি পাবেন কি না তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।
চুক্তি অনুযায়ী আগামী মে মাসে বাফুফের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাবে জেমির। বিরতি শেষে ঘরোয়া ফুটবল শুরু হয়ে যাচ্ছে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে। অর্থাৎ বর্তমান চুক্তি থাকাকালীন জাতীয় দলের নেই কোনো ম্যাচ। এ অবস্থায় বাফুফে জেমি ডের ওপর আস্থা রাখবে কি না, কিংবা এ কোচই বাংলাদেশে থেকে যাবেন কি না। এসব প্রশ্ন এসেই যাচ্ছে।
যদিও এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন না জেমি। তার অধীনে আন্তর্জাতিক পথচলায় ছিল সাফল্য ও ব্যর্থতার মিশেল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় পর্বে খেলা এই কোচের অধীনে। কিন্তু দেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের গেরো খুলতে না পারার হতাশা আছে। আছে বঙ্গবন্ধু কাপের ফাইনালে না উঠতে পারার ব্যর্থতা।
কিন্তু তার অধীনে যে পরিবর্তনটা এসেছে ফুটবলারদের মধ্যে সেটা হলো, পুরো ৯০ মিনিট একই তালে খেলে যাওয়া। ফিটনেসেও এসেছে পরিবর্তন। গতিকে পুঁজি করে সারা মাঠ দৌড়ে বেড়ানো দেখেই বোঝা যায় তরুণ ফুটবলারদের ভালোই চাঙ্গা রেখেছেন জেমি।
‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু পরিকল্পনা করে এগিয়েছি। ছেলেদের খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে সবকিছুতেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। এই পরিবর্তনগুলোর সুফল পেতে শুরু করেছে খেলোয়াড়রা। একই সঙ্গে তাদেরও কৃতিত্ব দেব কারণ সবকিছুই তারা মেনে চলছে।’ দায়িত্ব নিয়েই ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন জেমি। তার জন্য এই কোচের চাই সময়, ‘সবকিছু হুট করেই পরিবর্তন হবে না। এর জন্য প্রয়োজন সময়। চুক্তি শেষ হবে মে মাসে। আমি হয়তো জুন পর্যন্ত থাকব। এরপর কী হয় তা পরেই নির্ধারিত হবে। তবে সবদিক থেকে উন্নতি করতে হলে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।’
বাংলাদেশ দিয়েই কোনো জাতীয় দলকে পরিচালনার শুরুটা হয়েছিল এই কোচের। তাই তো এখনই বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কিছু চিন্তা করতে চাইছেন না জেমি, ‘চুক্তি যদি নতুন করে করি তবে আমি চাইব সেটা বড় সময়ের জন্য করতে। যেন বাংলাদেশকে আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ফুটবল ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা মাথায় নেই। কারণ কাজটা আমি উপভোগ করছি।’
সদ্য সমাপ্ত বাছাই পর্বের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করলেও জেমি খানিকটা হতাশ প্রথম দুই ম্যাচে পয়েন্ট না পাওয়ায়। শ্রীলঙ্কাকে হারানোর মধ্য দিয়ে এই আসরে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া বাংলাদেশ দলের মধ্যে লড়াকু মনোভাব দেখে মুগ্ধ এই কোচ, ‘গ্রুপে আমাদের দুটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে। বাহরাইন ও ফিলিস্তিন র্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে। তারপরও আমরা লড়াই করেছি। শেষ মিনিট পর্যন্ত হাল ছাড়িনি। এটাই উন্নতির একটা লক্ষণ।’
জেমিকে নিয়ে বাফুফের ভবিষ্যৎ চিন্তাটা কী জানা যাচ্ছে না। তবে এই কোচের অধীনে ছেলেদের যে পরিবর্তনগুলো ফুটে উঠছে তাতে এখনই তাকে বিদায় করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত বাফুফে নেবে না বলেই বিশ্বাস।