বনানীর ১৭ নম্বর রোডে ২২তলা বিশিষ্ট এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে লাফিয়ে নামতে গিয়ে চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একজন আগুনে পুড়ে নিহত হন। রাতে ভবনের ভেতর থেকে কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান থানা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরমান আলী জানান, ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলে জানা গেছে, বনানীর বহুতল এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন বিদেশি। তিনি শ্রীলঙ্কার নাগরিক।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৯ ইউনিট কাজ করে। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনীসহ, র্যাব, পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত রয়েছে। দুপুরে আগুন মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রণে আসলেও থেকে থেকে আবার জ্বলতে শুরু করে। ধোঁয়ায় ভরে যায় চারপাশ। ভবনটিতে আটকা পড়া অনেককে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস বাহিনী।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে এ আগুন লাগে। বিকেল ৫টার দিকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার খবর দেন।
বিকেলে ইউনাইটেড হাসপাতালের সাজ্জাদুর রহমান শুভ ওই হাসপাতালে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। যারা ভবন থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে মৃত্যুবণ করেন। তারা হলেন- মনির হোসেন, মামুন, মাকসুদুর।
অপরদিকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি আব্দুল্লাহ আল ফারুককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
এ ছাড়া উদ্ধারের পর দগ্ধ পাঁচজনকে ঢামেকে আনা হয়। তাদের একজন মারা যান। শ্রীলঙ্কান এক নাগরিক চিকিৎসা শেষে চলে গেছে। বাকি তিনজন ভর্তি রয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢামেকের বার্ন ইউনিটের প্রধান শামন্ত লাল সেন বলেন, ‘যখন ঘটনা ঘটছে, তখন থেকে আমরা সবাই হাসপাতালে রয়েছি। যারা আসছি, তাদেরকে আজ আমরা দেখব। যদি পোড়া হয় তাহলে তাদেরকে আমরা রাখব, না হলে তাদের অর্থোপেডিক্সে স্থানান্তর করে দেব।’
তিনি বলেন, ‘এখন তিনজন আমাদের এখানে আছে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছে। বাকি দুই জনের অর্থোপেডিক প্রবলেম আছে, অল্প পোড়া।’
ঢামেকে নিহত ব্যক্তি হলেন আব্দুল আল ফারুকী। আর ভর্তি আহত দুজন হলেন আবুল হোসেন (৩০) এবং রেজাউল আহমেদ (৩৬)।
শামন্ত লাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর সাব্বির আলী নামে আরেকজন ভর্তি হন।
ঢামেকে আসা আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, 'বনানীর যে ভবনে আগুন লেগেছে, আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই ভবন থেকে লাফ দিয়েছে।’
উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হয় স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। ঘটনাস্থলে বহু অ্যাম্বুলেন্স জড়ো হয়। কয়েকজনকে আহত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতে দেখা যায় বিকেলে। পরে রাতে লাশ উদ্ধার করেও অ্যাম্বুলেন্সে নেয়া হয়। আহতরা ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আমাদের ১৯ ইউনিট এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
তিনি তখন বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সম্পর্কে কিছুই বলা যাচ্ছে না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছি।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশিষ বর্ধন বলেন, 'আগুন লাগার পরপরই আমাদের ৬টা ইউনিট ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এরপর আরও আটটা ইউনিট রওনা হয়েছে। ভবনের ভেতরে আটকা পড়াদের উপর থেকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। আগুনে হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।'