সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের যুগ্নীদহ মধ্যপাড়া গ্রামের কিশোরী পলি খাতুন ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
ধর্ষক আতিক পলির সম্পর্কে চাচাতো ভাই। চাচা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। অপর দুই জন তার বন্ধু। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। নিহত পলি খাতুনের মা আখলিমা খাতুন ও বোন এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
পলির মা আখলিমা খাতুন বলেন, তার ভাশুরের ছেলে আতিক ও তার ২ বন্ধু মনিরুল ও নাহিদ মিলে আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে।
তিনি আরো বলেন, পলি অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি এসে অচেতন হওয়ার আগে মুহূর্তে ওই তিনজনের নাম বলেছে। আমি তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
নিহত পলির বড় বোন সাবিনা খাতুন (২৫) বলেন, কিছুদিন আগে আমার চাচাতো ভাই আতিক আমার কাছে পলিকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। আমরা এ বিয়েতে রাজি না হওয়ায় আতিক ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার যুগ্নীদহ মধ্যপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম সাধুর কিশোরী মেয়ে পলি খাতুন (১৬) বাড়ির পাশের জমিতে শাক তুলতে যায়। এ সময় একই গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে আতিক (১৬), শহীদের ছেলে মনিরুল (১৬) ও আকতারের ছেলে নাহিদ (১৮) তাকে জোরপূর্বক পাশের ঝোপের মধ্যে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষিতার মুখে কীটনাশক ঢেলে তারা পালিয়ে যায়।
মুমূর্ষু অবস্থায় মেয়েটি বাড়ি ফিরলে লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে কিশোরী পলি খাতুন মারা যায়। নিহতর লাশ বাড়িতে রেখে পুলিশের নজর ফাঁকি দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার নামে রাতভর চলে গ্রাম্য সালিশ।
বুধবার সকালে খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। শালিস বৈঠকের ৩ জন নরিনা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর আব্দুল জলিল (৫০), ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজ (৪৮) ও নূর মোহাম্মদ মুন্সি (৪৬) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খাজা গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আতিক ও তার ২ বন্ধু মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ সম্ভ্রমহানির ঘটনায় মেয়েটি বিষ পানে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, নিহতর বাবা সাইফুল ইসলাম সাধু বাদী হয়ে ৩ ধর্ষক সহ মোট ৮ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া আটক ৩ জনকে আদালতের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশ বুঝে পাওয়ার পর রাতেই জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।