ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঠেকাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি)। পাল্টাপাল্টি হামলা-মামলার ঘটনাও এরই মধ্যে হয়েছে রাজ্যটিতে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের খরগপুরের এক র্যালিতে বিজেপির একজন স্থানীয় নেতা তৃণমূল কংগ্রেস কীভাবে গত জানুয়ারিতে তাদের একটি জনসভায় হামলা চালিয়েছিল তার ব্যাখ্যা দেন।
বিজেপির জেলা সচিব অরুপ দাস খরগপুরের ওই র্যালিতে বলছিলেন, ‘আমরা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তাদের গাড়ি ভাঙচুর করেছি, তাদের পার্টি অফিস পুড়িয়ে দিয়েছি। রুখে দাঁড়ান এবং প্রতিবাদ করুন। তৃণমূল কংগ্রেস ভয়ে পালিয়ে যাবে।’
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতে উত্তেজনার পাশাপাশি কিছু সহিংস ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু সবচেয়ে বাজে অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে। সেখানে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরের বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর, ভাঙচুর ও পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনছে।
গত বছর তিন রাজ্যে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করেছেন তার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে। কারণ মোদির ওপর রাজ্য নির্বাচনে হারের চাপ ছাড়াও দুর্বল অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানহীনতার চাপও আছে। আর এই চাপ সামলাতে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে চাইছেন।
পশ্চিমবঙ্গে মমতাকে বলা হয় ‘দিদি’। বিজেপির একের পর এক আঘাত ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভারতের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় করছেন বলে মনে করে রয়টার্স। তবে এমন সম্ভাবনা সফল হবে নির্বাচনে বিরোধীরা জোটের মাধ্যমে জিতে সরকার গঠন করতে পারলে।
কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান হচ্ছে। দুইবার রাজ্য নির্বাচনে জিতে যাওয়া মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে বিরোধীরা কাজ করছে।’
গত বছর বিজেপি গ্রাম কাউন্সিল নির্বাচনে ভালো করেছিল এবং সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি আটটি আসনে জিততে পারে। এটা ঠিক যে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক আসন না পেয়েও মোদি জাতীয় নির্বাচনে জয় পেতে পারেন। সম্প্রতি কাশ্মীরে সন্ত্রাসীদের হামালায় ৪০ জন পুলিশ নিহত হওয়ার ঘটনার পর এই সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে।
বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে বেশ কয়েকটি বিশাল র্যালি করেছে যেখানে স্বয়ং মোদিও উপস্থিত হয়েছিলেন। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা গৃহায়ন কর্মসূচির আলাপে না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে তৃণমূলের দুর্নীতি এবং স্বৈরতন্ত্রের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে দেখা যায় ওই র্যালিগুলোতে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রেসিডেন্ট দিলীপ ঘোষ বলেন, পুলিশ এবং সরকারের অন্য কর্মকর্তারা রাজ্যে গণতন্ত্রের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত শনিবার কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকেও তৃণমূলকে আক্রমণ করতে দেখা যায়। কিন্তু সবকিছুর বাইরেও মমতা ব্যানার্জির এখনো সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।