১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল। বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া, রাজবাড়ী, কলাউজান এলাকা। দিনের বেলায় এসব এলাকার হিন্দুপাড়ায় অতর্কিতে হামলে পড়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা। নির্বিচারে গুলি, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। ধরে নিয়ে যায় নারীসহ অনেককেই। গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাত জন। যুদ্ধকালে দোহাজারী পাকিস্তানি সৈন্যের ক্যাম্পের বাইরে মৃতপ্রায় অবস্থায় একদিন রত্না চক্রবর্তীকে উদ্ধার করেন পথচারী বাদল চক্রবর্তী। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার সুখছড়ি গ্রামে রত্না চক্রবর্তীর পৈতৃক নিবাস। বাদল চক্রবর্তীই সুস্থ করে তোলেন তাকে। এই বাদলই পরে হন তার স্বামী। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে স্বামী বাদল মারা যান, সেই থেকে তার দুঃখের শুরু। ৪৮তম স্বাধীনতা দিবস পেরিয়ে গেলেও বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি মেলেনি রত্না চক্রবর্তীর।
তিনি ২০১৫ সালের এপ্রিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বীরাঙ্গনা স্বীকৃতির আবেদন করেন। কিন্তু সরকারিভাবে আজও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি তিনি। বর্তমানে রত্না চক্রবর্তী নগরীর একটি বিপণি বিতানে ঝাড়ুদারের কাজ করে কষ্টে দিন যাপন করছেন। রত্না চক্রবর্তীর আবেদন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) পাঠানো হয়। জামুকা থেকে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এতে তিনজন মহিলা কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু আসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বদলির কারণে রত্না চক্রবর্তীর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে তিনজন মহিলা কর্মকর্তার মাধ্যমে গঠিত কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদনসহ অন্য কাগজপত্র ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে জামুকায় পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মেহের আফরোজ জানান, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও মুক্তিযুদ্ধকালে প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে রত্না চক্রবর্তীর ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।