বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের ঘোষণা ড. কামালের

রাজধানী ঢাকার বনানীতে এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।

শুক্রবার সকালে বনানীর এফআর টাওয়ার পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তার নেতৃত্বে একটি কমিটি ঘটনার তদন্ত করবে জানিয়ে ড. কামাল বলেন, “আমাদের কমিটি ভবন নির্মাণের যথাযথ নীতিমালা মানা হয়েছে কিনা সেটা দেখতে তদন্ত করবে।”

তিনি বলেন, “এত বড় ঘটনা, এত মানুষ মারা গেল, এই তদন্তে জাতীয় কমিটি গঠন করা দরকার। আমরা আইনবিদ ও বিশেষজ্ঞরা তা দেখবো।”

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আহ্বায়ক বলেন, “এই ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয়েছে কিনা এবং যেসব শর্ত তাদের দেওয়া হয়েছিল তা তারা মেনেছিল কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। সরকার তদন্ত কমিটি করবে। সেখানে বহুতল ভবনে নির্মাণের অভিজ্ঞ এমন বিশেষজ্ঞদের নেওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “আমরা যে তদন্ত কমিটি করেছি তার কো-অর্ডিনেটর সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। আপনারা সবাই তাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। আমরা সরেজমিনে দেখে গেলাম। এরপর তথ্য সংগ্রহ করবো।”

ক্ষতিগ্রস্তরা চাইলে আইনি সহযোগিতার ঘোষণা দিয়ে ড. কামাল আরও বলেন, “এত বড় ভবন মানুষ বাঁচার জায়গা পেল না। জানালা দিয়ে লাফিয়ে পরে মানুষ মারা গেল, আটকা পড়ে পুড়ে মারা গেল- এটা হতে পারে না।”

তিনি বলেন, “ফায়ার এক্সিট থাকার কথা সেগুলো এই ভবনে নেই। থাকলেও তা কাজ করেনি। এসব বিষয় কেন মনিটরিং হয় না সেগুলো দেখা উচিত। সরকার এবিষয়ে একটা কমিশন গঠন করে সবকিছু তদারকি করতে পারে।”

এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক। এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বনানীর ১৭ নম্বর রোডে ২২তলা বিশিষ্ট এফআর টাওয়ারে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৯ ইউনিট কাজ করে। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীসহ, র‌্যাব-পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত ছিল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।