বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সরে দাঁড়ানোর আহ্বান মাহবুবের

ব্যর্থতার দায় নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব থেকে নিজ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘চেতনা বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। 

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, শুধু ভালো ভালো বক্তব্য দিয়ে কারাবন্দী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে না পারলে দলের নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজের কাছে নেতৃত্ব দিন, যারা রাজপথ উত্তপ্ত করতে পারবে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবে। তাদের দায়িত্ব দিয়ে চলে যান। ব্যর্থদের নেতৃত্ব কেউ চায় না।

কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে তিন মাস ধরে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয় না- এমনটা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, অথচ দলের নেতারা ভালো ভালো বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন। সময় খুবই সংকীর্ণ। খালেদা জিয়া যে অবস্থায় আছেন এই অবস্থা চলতে থাকলে বিএনপির সামনে মহাবিপদ।

তিনি বলেন, বিপদের দিনে জনগণ ভালো ভালো বক্তব্য শুনতে চায় না। রাজপথ উত্তপ্ত করতে হবে। রাজপথ উত্তপ্ত করতে যা করা দরকার নীতিনির্ধারকরা তাই করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খন্দকার মাহবুব বলেন, সারা দেশের ভোটাররা বিএনপির পক্ষে ছিল। কিন্তু দলের নেতারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করতে পারল না কেন? এই ব্যর্থতা কার? এই ব্যর্থতা জনগণের না, এই ব্যর্থতা যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের। এই ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব বিএনপির নীতিনির্ধারকদের নিতে হবে। এর জবাব জনগণের কাছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। গণতন্ত্র বলুন, ভোটাধিকার বলুন, মানবাধিকার বলুন যা কিছু বলুন না কেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কোনো কিছুই মুক্তি পাবে না।

সংগঠনের সভাপতি ও দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রহিমের সভাপতিত্বে ও কৃষক দলের  আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এম জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক প্রমুখ।