স্মার্ট ও নিরাপদ গ্যাজেট কেনার উপায়

এক নিরাপত্তা গবেষক সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন এলআইএফএক্স স্মার্ট বাল্বগুলো ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা কীভাবে নেটওয়ার্কভিত্তিক স্মার্ট বাল্ব হ্যাক করে ওয়াইফাই তরঙ্গের পাসওয়ার্ড বের করা যায় এবং লাইট নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়, সে বিষয়টি দেখিয়েছেন। তাই এই গ্যাজেট আপনার ঘরে ঠাঁই দেওয়া মানে নিজের নিরাপত্তাকে বিঘিœত করা।

আজকাল দেখা যায়, একটি মাত্র অ্যাপ ব্যবহার করেই নিত্যব্যবহার্য বেশ কয়েকটি বিষয় একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু আপনি বাথরুমে গেলে কিংবা আপনার ফোনটি বেহাত হলে পুরো বাড়িই আনলক কিংবা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যেতে পারে অন্য কেউ।

দুর্বল নিরাপত্তার ডিভাইস তাই কোনো ভুল হাতে গিয়ে আপনার নিরাপত্তার বিরুদ্ধেই প্রধান অস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তাই আপনার বাড়িতে অনাকাক্সিক্ষত অতিথির ঢুঁ মারা ঠেকাতে নিরাপদ গ্যাজেট বাছাই করা জরুরি।

যা কিনছেন, তা সম্পর্কে জানুন

গত বছর অ্যাডোবের এক জরিপে দেখা গেছে, যারা স্মার্ট স্পিকার ব্যবহার করেন, তারা বিশেষত সংগীত, সংবাদ, আবহাওয়া এবং টাইমার কিংবা অ্যালার্ম শোনার জন্যই তা ব্যবহার করেন। তবে, এর সবই আপনার স্মার্টফোন থেকে করা সম্ভব। তাই এমন কিছু কিনুন, যা আপনার একান্তই প্রয়োজনীয়।

আপনার ওয়াশিং মেশিনের সঙ্গে চ্যাটিং কি একান্তই প্রয়োজনীয়? বাজারে এ ধরনের প্রোডাক্টও এখন সহজলভ্য। যেকোনো সেবা কেনার আগে আপনার ভেবে দেখা উচিত, এটা আপনি আপনার জীবনযাত্রার কোন জায়গাটির জন্য প্রযোজ্য এবং এও জানা উচিত, কখনো যদি এটি আপনার সঙ্গে বিরুদ্ধাচরণ করে, তবে সম্ভাব্য ক্ষতি কী পরিমাণ হতে পারে।

কোনো গ্যাজেট কিংবা ডিভাইসে আপনি কি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করতে আগ্রহী? কিংবা আপনি কি পরিকল্পনা করেছেন, এটি দিয়ে কেনাকাটা করবেন? সবচেয়ে বড় কথা হলোÑ যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আপনি ডিভাইসটি সংগ্রহ করলেন, তাকে কতটুকু বিশ^াস করেন? উদাহরণস্বরূপ যদি ফেইসবুক আপনার ঘরে কোনো ক্যামেরা তাক করে রাখে, তবে আপনার কি উচিত নয়, তাকে ত্যাগ করা?

নিরাপত্তা সম্পর্কে সজাগ হোন

কোনো ইন্টারনেট কানেক্টেড ডিভাইস কেনার আগে, তা স্মার্ট হোক বা না হোক, আপনার অবশ্যই এর নিরাপত্তা সম্পর্কিত ব্যাপারগুলো সম্পর্কে ভালো করে জানা। এ ছাড়া এর সেট-আপ প্রক্রিয়া এবং সেটিংস সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া উচিত। যদি এটি কোনো ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করেন, তবে অবশ্য আপনার দেখা উচিত সেই পোর্টালের সঙ্গে ‘এইচটিটিপিএস’ সংযুক্ত আছে কি-না। যদি থাকে, তবে তা নিরাপদ। তা ছাড়া কোনো ডিভাইসে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ওই সাইটের ‘ট্রান্সপোর্ট লেয়ার সিকিউরিটি’ (টিএলএস) সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া উচিত। তা না হলে, এই কমিউনিকেশন সিস্টেম থেকে কেউ আপনার তথ্য হাইজ্যাক করে নিতে পারে।

যদি গ্যাজেটটি কোনো অ্যাপ পরিচালিত হয়, তবে দেখে নিন কী কী তথ্য তারা আপনার কাছে চাইছে এবং এসব তথ্য তাদের কী কাজে লাগবে। সন্তোষজনক হলেই কেবল কোনো ফার্স্ট পার্টি অ্যাপস্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে রাখা সব অ্যাপেরই মেলওয়্যার স্ক্যান করা এবং এর বেক গ্রাউন্ড যাচাই করা। গুগলের অ্যাপ স্টোরে মেলওয়্যার স্ক্যানের জন্য প্রতিষ্ঠানটির আন্তঃব্যবস্থাপনা আছে। যে অ্যাপগুলো স্ক্যান করা, সেগুলো গুগল প্লে প্রটেক্ট দ্বারা ভেরিফাইড হিসেবে চিহ্নিত করা থাকে।

ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি পাসওয়ার্ড সেট-আপ কিংবা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিরাপদ। কোনো গ্যাজেটে ‘হার্ড-কোডেড’ পাসওয়ার্ড সিস্টেম পাশ কাটিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি প্রায় সব ডিভাইসের ক্ষেত্রেই একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে।

যদি কোনো ডিভাইসে আপনি কোনো অতিথিকে স্বাগত জানান, যিনি দূর থেকেই ডিভাইসটি কন্ট্রোল করতে পারবে, তবে ফিচারটি সেখান থেকেই ডিজেবল করে দেওয়া সম্ভব কি-না দেখে নিন।

যদি এমন কোনো ডিভাইস হয়, যেমন : সিকিউরিটি ক্যামেরা; যা কোনো সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত, তবে এর ডেটা সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। সাধারণত কোনো ডিভাইস অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড অ্যানক্রিপশন প্রক্রিয়ায় ডেটা সরবরাহ করলে ওই ডেটা নিরাপদে থাকে। এমনকি ওই কোম্পানি থেকেও ডেটা নিরাপদ থাকবে, যার সার্ভার থেকে ডিভাইসটি পরিচালিত হচ্ছে। পুরনো স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোতে এ ধরনের নিরাপত্তা অনেক কম, যদিও নতুন ডিভাইসগুলোতে এর ব্যবহার বাড়ছে।

ব্র্যান্ড নেমে ভরসা রাখুন

হুট করেই এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের ডিভাইস ব্যবহার করবেন না, যার ব্র্যান্ড নেম সম্পর্কে এর আগে আপনার কোনো ধারণা নেই। কিন্তু পরিচিত ব্র্যান্ডগুলো এ ক্ষেত্রে নিরাপদ হতে পারে, কারণ অনেক পরীক্ষা উতরানোর পরই সেগুলো জনপ্রিয় হয়েছে। ব্যবহারকারীরা কি চায়, সে সম্পর্কেও সজাগ থাকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান।

তা ছাড়া বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত তাদের সফটওয়্যার এবং অ্যাপগুলোকে আপডেট রাখে। যদি কোনো অ্যাপ স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে সাড়া না দেয়, তবে এটি নিরাপত্তা-ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে। নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে নতুন নতুন এরর, বাগ কিংবা অন্য সমস্যাগুলোকে দূরে রাখা সম্ভব।

আমাদের গৃহস্থালি অবশ্যম্ভাবিভাবেই আরও স্মার্ট হয়ে যাচ্ছে এবং এটা অবশ্যই ভালো খবর। কারণ স্মার্ট হোম আমাদের শক্তি এবং অর্থ অপচয় রোধ করে। যাই হোক, সব প্রযুক্তিরই কিছু না কিছু ফাঁকফোকর থেকে যায় এবং এগুলো আমাদের বিরুদ্ধাচরণও শুরু করে দিতে পারে। এত কিছুতে মনোযোগ রাখাও কম ঝামেলার নয়।

স্মার্টফোন গরম হওয়া ঠেকাতে

স্মার্টফোন গরম হয়ে যাওয়া আজকাল একটি সাধারণ সমস্যা। স্মার্টফোন বেশি চার্জ করলে অথবা বেশি গেম খেলতে গরম হতে শুরু করে। ফোনে কথা বলতে বলতে খেয়াল করলেন, ফোনটা গরম হয়ে উঠেছে! ফোন চার্জে বসানো, খুলতে গিয়ে দেখলেন সেটা গরম হয়ে উঠেছে। গেম খেলা বা ভিডিও দেখার সময় ফোন এত গরম হয়ে যাচ্ছে যে হাতে রাখতে পারছেন না। তখন মনের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করতে শুরু করে। জেনে নিন, ফোনের এই ব্যাটারি গরম হয়ে ওঠা বন্ধ করবেন কী করে-

 

-সূর্যের আলো থেকে স্মার্টফোন দূরে রাখুন। প্লাস্টিকে তৈরি স্মার্টফোন আরও বেশি দূরে রাখা প্রয়োজন। বেশি সূর্যের আলোতে থাকলে স্মার্টফোন যেমন বেশি গরম হয়, তেমনি ক্ষতি হয় এর টাচস্ক্রিনে।

-রাতভর ফোন চার্জে দিয়ে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এর ফলে মোবাইল অত্যধিক গরম হয়ে যাওয়া ছাড়াও ব্যাটারির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। বিছানা বা সোফায় ফোন চার্জে বসাবেন না। টেবিল বা শক্ত কোনো পাটাতনের ওপর রেখে ফোন চার্জ করুন।

- চার্জ দেওয়ার সময় ফোনের কভার অবশ্যই খুলে রাখুন। চার্জ দেওয়ার সময় ফোনে যে তাপ উৎপন্ন হয়, কভার থাকায় তা বেরোতে পারে না। ফলে মোবাইল ফোন গরম হয়ে ওঠে।

--গরম হয়, একই সঙ্গে ফোনের ব্যাটারির আয়ু হু হু করে কমে যায়।

-অন্য ফোনের ব্যাটারি বা অন্য ফোনের চার্জার ব্যবহার না করাই ভালো। এতে হ্যান্ডসেট দ্রুত খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

-যেসব অ্যাপ চালালে ফোনের ব্যাটারি দ্রুত খরচ হয় বা ফোন গরম হয়ে ওঠে, সেগুলি ফোন থেকে আন ইনস্টল করে দেওয়াই ভালো।