শুধু ভবন মালিক বা ভাড়াটিয়ারাই আগুনের জন্য দায়ী নন উল্লেখ করে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, এজন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সসহ যেসব কর্তৃপক্ষ ভবন তৈরির অনুমতি দিয়েছেন ও ছাড়পত্র দিয়েছেন তারাও দায়ী।
শুক্রবার রাজধানীর বনানীতে আগুনে পোড়া এফআর টাওয়ার সরেজমিন পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের আইজিপি এ কথা বলেন। এসময় তিনি ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী সদস্য, পুলিশ ও অফিসের মালিক এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, ‘এখন আমাদের সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করে ভবন তৈরি করতে হবে এবং সেটা যথাযথ বাস্তবায়ন হয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’
আইজিপি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের জন্য শুধু মালিককে এককভাবে দায়ী করলে হবে না। আমরা যত দূর জেনেছি ভবনটির নির্মাণকাজ ১২/১৩ বছর আগেই শেষ হয়েছে। এখানে নকশা বহির্ভূত কোন কিছু হয়ে থাকলে সেটা আগে থেকেই দেখার দরকার ছিল। কারণ নকশা বহির্ভূত কিছু হয়ে থাকলে সেটা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাজউকের আছে। তাই তারাও দায় এড়াতে পারে না।’
মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিহতের স্বজনরা মামলা করলে ভালো। নিহতের স্বজন কেউ মামলা করতে রাজি না হলে সরকার তথা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে এবং সেখানে কারও গাফিলতি থেকে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
চুড়িহাট্টার ঘটনায় এজাহারের দুর্বলতার কারণে আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন এ ক্ষেত্রে এমন হবে কিনা জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, দণ্ডবিধির কিছু ধারা আছে জামিন যোগ্য কিছু ধারা আছে জামিন অযোগ্য। সে ক্ষেত্রেও আদালত যদি মনে করেন আসামির জামিন দেওয়া যায় তারা জামিন দেবেন। সে ক্ষেত্রে কোর্টের সুযোগ সব সময় থাকে। আমরা আইন অনুযায়ী মামলা দেব এবং আসামিদের আদালতের হাতের সোপর্দ করব। জামিন দেওয়া না দেওয়া আদালতের বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবনের মালিকদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গুলশান বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এখনো তাদের কথা হয়নি। পরবর্তী যেসব ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা আমরা নেব। ভবন মালিক যদি বিল্ডিং কোডের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বা নকশার বাইরে কোন স্থাপনা করে থাকলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজউকের কোন ব্যত্যয় থাকলে ঘটে থাকলে সেটার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অনেক ভবন ঝুঁকিতে আছে ফায়ার সার্ভিস তাদের সতর্ক করে চিঠি দেয় কিন্তু মালিকরা সেটা আমলে নেয় না। এই অবস্থায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে কিনা জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘এখন একটা ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। কোন ভবন তৈরির আগে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নিতে হয়, ভবন তৈরির পর সেখানে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ কিনা সে বিষয়ে অকুপেন্সি সনদ নিতে হয়। ফায়ার বিভাগ যখন ছাড়পত্র দিচ্ছে তখন অবশ্যই তারা প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করে। আমার মনে হয় প্রত্যেকটি ভবন তৈরির সময় এবং পরে অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি রাখতে হবে। শুধু আইন দিয়ে সব হয়ে যাবে না। সবাই এ বিষয়ে সচেতন হবে হবে। আমি বলব জাতীয় ইমারত তৈরি নীতিমালা যেটা আছে ভবন তৈরির আগে সেটা যাতে সবাই মেনে চলেন। এর যাতে কোন ব্যত্যয় না ঘটে। আইন বাধ্য করবে সবকিছু করতে এটা হতে পারে না। আইন থাকবে ২/৪ শতাংশের জন্য আর সবাই নিজ উদ্যোগে আইন মেনে চলবেন। তার সঙ্গে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরাদের সময় এসেছে যাতে আমরা সবাই আইন মেনে চলি।’
এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন, গুলশান বিভাগের উপ-কমিশানর মোস্তাক আহমেদ, সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।