ভিসির পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি

বরিশালে শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল

বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বিকেল ৪টায় বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। দাবি আদায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মশাল মিছিল নিয়ে বের হলে তারা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন।

শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে হলেই থেকে যান।

আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বিকেল ৪টায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ এবং সন্ধ্যায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে মশাল মিছিল করেন।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া আদায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, হীন ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে শুধু ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই নয়, পুরো দেশের ছাত্রসমাজকে ক্ষুব্ধ ও অপমানিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের ওইদিন বিকেল ৫টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উপাচার্য এসএম ইমামুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর কলাবাগানে লিয়াজোঁ অফিসে সিন্ডিকেটের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।

গত ২৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের না বলায় চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এরপর প্রকাশ্যে উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাহার ও তার পদত্যাগের দাবিসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।