ক্ষমতাসীন দলের নেতারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় পটুয়াখালীর সাত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমশই সহিংস হয়ে উঠছে। বেশ কয়েকটি হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনাসহ প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি সাংবাদ সম্মেলনে উদ্বিগ্ন সাধারণ ভোটার।
আগামীকাল রবিবার (৩১ মার্চ) পটুয়াখালীর সদর, বাউফল, মির্জাগঞ্জ, গলাচিপা, দশমিনা, দুমকী ও কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা চেয়ারম্যানের সাতটি পদে ক্ষমতাসীন দল মনোনীত নৌকার প্রার্থীদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী ২০ আওয়ামী লীগ নেতা। বিদ্রোহীদের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান। ফলে ক্ষমতাসীন দল মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। ভোটের মাঠের আধিপত্য ধরে রাখতে তারা মরিয়া।
প্রচারের শুরু থেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পারস্পরিক অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসন প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকও করে। বৈঠকে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরের শেখ রাসেল সেতুসংলগ্ন এলাকায় প্রতিপক্ষের সমর্থকদের তিন দফা হামলায় আহত হন নৌকা প্রতীকের তিন সমর্থক। বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘটেছে ছোটখাটো হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, খুন-জখমের হুমকি, সন্ত্রাসী ভাড়া করে জড়ো করা, কেন্দ্রে দাঙ্গা ও ভোট ডাকাতির চেষ্টাসহ সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ এনে ২৭ মার্চ সাংবাদ সম্মেলন করেন নৌকার প্রার্থী রাকিবুল আহসান। একই দিন পাল্টা সাংবাদ সম্মেলনে রাকিবুলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনেন প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ আকতারুজ্জামান কোক্কা।
গত ২১ মার্চ মির্জাগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী খান আবু বকর সিদ্দিকীর নির্বাচন সমন্বয়কারী, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহম্মেদের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। গলাচিপায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান লিংকনের বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। গত ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে তিনি দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় গত ২৩ মার্চ পাল্টাপাল্টি সাংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল মোতালেব ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তাদের হামলা ও হুমকির কারণে সাধারণ ভোটাররা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে।
তবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান সুষ্ঠু ভোটের আশাবাদ ব্যক্ত করেন জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।