শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হক অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
এর আগে তার পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে শুক্রবার মশাল মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে পুনরায় আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৭টায় দাবি আদায়ে মশাল মিছিল নিয়ে বের হলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে তারা।
শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীরা ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে অবস্থান করে আন্দোলন চালিয়ে যায়।
এরপর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সিন্ডিকেট সভা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা কলাবাগানে লিয়াজোঁ অফিসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম ইমামুল হকের সভাপতিত্বে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাশেষে রাতে উপাচার্য এসএম ইমামুল হক ২৬ মার্চের দেওয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ওই শব্দ (রাজাকারের বাচ্চা) তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে বলেননি। যারা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বানচাল করতে চায় তাদের বলেছেন। তারপরও তিনি ওই শব্দের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
উপাচার্য বলেন, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায়, শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা হল ত্যাগ না করে আন্দোলন করছেন। একটি বিশেষ মহল এর পেছনে কাজ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শুক্রবার সিন্ডিকেট সভা শেষে রাত সাড়ে ১০টায় উপাচার্যের পক্ষ থেকে এসব উল্লেখ করে একটি বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
এসএম ইমামুল হক রাতে মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে শ্রেণিকক্ষে ফেরে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া হবে। আমি চাই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে আসুক।
তিনি বলেন, কেউ হয়তো শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়েছেন। তা না হলে আমার যাওয়ার আগে এ রকম আন্দোলন হওয়ার কথা নয়। আমি ওই শব্দের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
গত ২৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের না বলায় চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় উপাচার্য প্রকাশ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও তার পদত্যাগের দাবিসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারা। এরপর বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।