সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ও বাম রাজনীতিক মহসিন শস্ত্রপাণির স্মরণসভায় বক্তারা বলেছেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি ভালোভাবে গড়ে না ওঠে, তা হলে বিকল্প রাজনৈতিক দল গড়ে উঠবে না। তাই আমাদের উচিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করা। মহসিন শাস্ত্রপাণি ছিলেন একাধারে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
গতকাল রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মৈত্রী মিলনায়তনে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, মহসিন শস্ত্রপাণির স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, তার মেয়ে সুপ্রভা সেবতী, নয়া দুনিয়ার নির্বাহী সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুস ছাত্তার, লেখক, গবেষক অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম সদস্য আজিজুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ইকবাল তুহিন। স্মরণসভার আয়োজন করে দৈনিক নয়া দুনিয়া।
সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মহসিন শস্ত্রপাণির কন্যা সুপ্রভা সেবতী বলেন, ‘আজকের এ সভায় যখন বাবার বন্ধুরা মানতে পারছেন না বাবা নেই, তখন বুঝে নিন আমার পরিবারের অবস্থা কী। আপনারা আলোচনা সভায় বাবাকে নিয়ে যেভাবে আলোচনা করেছেন, আমি চাই না এ অলোচনা সভা শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকুক। তরুণ প্রজন্ম আমার বাবাকে জানুক। তার প্রকাশনাগুলোকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই, তা হলেই সম্ভব এ সমাজকে পরিবর্তন করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি লিখে গেছেন লড়াই আছে প্রস্তুত হচ্ছি।’ আমি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাব, আপনারা যারা শ্রেণির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে চান, লড়াই করতে চান তারা প্রস্তুত হন।
নয়া দুনিয়ার নির্বাহী সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু বলেন, ‘আমরা তার স্মৃতিগুলোকে তার গড়া নয়া দুনিয়া পত্রিকার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখতে পারি, আজ আমাদের হাত-পা বাঁধা, আমরা কোনো কাজ করতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার মৃত্যুতে যেন আকাশ থেকে মেঘ সরে গেছে। তিনি ছিলেন একজন ভয়ংকর মানুষ, কারণ তিনি অকপটে সব সত্য কথা বলতে পারতেন, তিনি কালোকে বলতেন কালো আর সাদাকে বলতেন সাদা।’
ব্রিটিশ ভারতে ১৯৪৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর মহসিন শস্ত্রপাণি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ আবদুল মুত্তালিব ও মাতা জাহানারা খাতুন। তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের কাজীরবেড় গ্রামে। ১৯৬৩ সাল থেকে মহসিন শস্ত্রপাণি ঢাকায় বসবাস করছেন। প্রায় ৩০ বছর তিনি একাধারে সাংবাদিকতা ও প্রকাশনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। দৈনিক আজাদ, দৈনিক জনপদ এবং সাপ্তাহিক গণবাংলা পত্রিকায় তিনি কাজ করেছেন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি মাসিক উন্মেষ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও কিছুকাল তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকা নয়া দুনিয়ার সম্পাদক-প্রকাশক ছিলেন। গত ২ মার্চ শনিবার রাত ১২টায় তিনি মারা যান।