পারিবারিক বিরোধের জেরেই খুলনায় ঠিকাদার মিজানুর রহমান বালাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের স্ত্রী। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে তদন্ত করছে পুলিশও। তবে হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরোলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি।
নিহত বালার স্ত্রী সারা রহমান অভিযোগ করেন, তার দেবর যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এস এম মেজবাহ হোসেন বুরুজের মৃত্যুর পর তার স্বামীই ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এ নিয়ে বুরুজের স্ত্রী সাবিহা খাতুনের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরেই সাবিহা সন্ত্রাসীদের দিয়ে বালাকে হত্যা করিয়েছে।
সারা আরও বলেন, ‘গত বছর ২০ নভেম্বর সাবিহা সন্ত্রাসী দিয়ে আমার স্বামীর ওপর হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু পারিবারিক কারণে তখন ওই ঘটনায় আমরা কোনো মামলা করিনি। তারপরও সাবিহা আমার স্বামীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।’
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বালা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বুরুজের স্ত্রী মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সাবিহা খাতুন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সোনাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। খুলনা থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঠিকাদার বালা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে নিহতের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সাবিহাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ এদিকে বালা হত্যায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান। প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে নগরীর মুসলমানপাড়ার নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার মিজানুর রহমান বালা। তিনি খুলনার গোপালগঞ্জের শিবপুর এলাকার মৃত জহুরুল হকের ছেলে।