পলিথিনের বিকল্প পাটের ‘সোনালি ব্যাগ’ বানিয়েছেন ড. মোবারক আহমেদ খান। প্রতিটির দাম ১০ টাকা। চিংড়ির খোসা থেকে ফরমালিন রোধে ‘কাইসোটান’ বাক্স, পাটের সাড়ে ৩শ পণ্য তৈরি করেছেন। সে গল্প বলছেন আসিফ আল আজাদ। ছবি তুলেছেন নুর
বরাবরই তিনি খুব কৌতূহলী। নতুন কিছু দেখলে তার মনে প্রশ্ন জাগে। রেডিওতে কীভাবে গান বাজে, ছোটবেলায় জানতে মন চাইত। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছেন। শিক্ষক এক ক্লাসে বললেন, ‘পানিতে কেরোসিন ঢেলে দিলে কিন্তু আগুন জ্বলে।’ বাড়ি এসেই কথা মতো পরীক্ষা চালালেন। আগুন চোখের পাপড়ি পুড়িয়ে দিল, অল্পের জন্য মুখ বেঁচে গেল। বিজ্ঞানী হবেন বলে নবম শ্রেণিতে ‘বিজ্ঞান’ নিলেন। ১৯৭৩ সালে মানিকগঞ্জ মডেল হাই স্কুল থেকে মেট্রিক, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেন। কলেজে বিজ্ঞান ক্লাব ‘বিজ্ঞান মুকুট’ গড়লেন। ক্লাব থেকে বিজ্ঞান মেলা করতেন, অন্য কলেজের বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিতেন। ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজে বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়ে তিনি পুরস্কার জিতেছেন।
বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী এই ছেলেকে মা চেয়েছিলেন, ‘ডাক্তার’ বানাবেন, বাবা চাইতেন ‘বিজ্ঞানী’ই হোক। তারা তাকে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রসায়ন’ বিভাগে বিএসসিতে ভর্তি করালেন। বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি বিজ্ঞান মুকুটের শাখা করলেন। ১৯৭৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা হলো। তাতে লাইট ডিপেন্ডেন্ট রেসিস্টর (এলডিআর) মানে কোনো কিছুর ওপর আলো পড়লে তীব্রতা অনুযায়ী সে আলো কম বা বেশি হয়Ñ এই গবেষণার জন্য দ্বিতীয় পুরস্কার পেলেন। ফলে বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের সহযোগী সদস্য হলেন। এমএসসিতে ‘ন্যাচারাল প্রোডাক্ট’ নামে গবেষণায় গন্ধভাদুলির ওপর গবেষণা করলেন। দেখালেন, গাছগাছড়ার মতো
প্রাকৃতিক প্রতিরোধক অনেক আছে। গ্রামে বা অনেক জায়গায় মানুষের পেট খারাপ, আমাশয় হলে গন্ধভাদুলির রস খাওয়ানা হয়। দেশীয় উপকরণ দিয়ে, দেশের জন্য এই গবেষণার জন্য তিনি শিক্ষকদের প্রশংসা পেলেন।
লেখাপড়া শেষে মোবারক আহমদ খান ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে ‘বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা’ হিসেবে চাকরি নিলেন। ‘রসায়ন’ বা ‘কেমিস্ট্রি’ বিভাগের দায়িত্বে এলেন। ‘নিউক্লিয়াস কেমিস্ট্রি’ নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। এখনো সেই জীবনের কথা তার মনে পড়ে “এই গবেষণার মূলে ছিল ‘রেডিয়াম কেমিস্ট্রি’। চিকিৎসাবিদ্যায় রেডিয়াম রেডিশন কেমিস্ট্রি ব্যবহার হয়, আবিষ্কারেও ব্যবহার হয়। রেডিয়াম বা রেডিশন দিয়ে উপকরণের মান বদলানো যায়। কাঠ, প্লাস্টিকে এর মিশ্রণে নতুন আবিষ্কার হয়।” এরপর তিনি ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়া গেলেন। পলিমার ও তেজস্ক্রিয় রসায়নে পিএইচডি করলেন। ‘উড প্লাস্টিক কম্পোজিট’ নিয়ে গবেষণা করলেন। গরমকালে কাঠ শুকিয়ে যায়, দরজা-জানালা ফাঁক হয়ে যায়, বর্ষা-শীতে টাইট থাকে। ঋতুভেদে কাঠের আকারের বৃদ্ধি-হ্রাসকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডাইমেনশনাল ইলাসটিবিলিটি’ বলে। শিমুল ও আম কাঠ সহজলভ্য বলে তিনি এ বিষয়ে এই কাঠ নিয়ে গবেষণা করেছেন। পরে এটি এত খ্যাতি পেল যে তার পিএইচডি থিসিসের ওপর ১১টি পাবলিকেশন হলো।
১৯৯০ সালে দেশে ফিরে আবার পরমাণু শক্তি কমিশনে যোগ দিলেন। তত্ত্বীয় নয়, বাস্তব ক্ষেত্রে গবেষণা শুরু করলেন। শুরু হলো সোনালি আঁশ দিয়ে। সবার আগে পাটের দুর্বলতা খুঁজতে লাগলেন।
অনেক ভেবে, গবেষণা করে পাটের দুর্বলতা বের করলেন। সেগুলোর মধ্যে আছে, পাটের আঁশ টেকশই নয়, দুর্গন্ধ বের হয়, বেশি পানি শোষণ করে, পাতলা বলে একে ‘সাইকো ফাইবার’ বলে। ফলে পাটের আঁশের মান বাড়ানোর জন্য কাজে নামলেন বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমেদ খান। তখন বাংলাদেশের এই গর্ব সারা বিশ্বে অবহেলিত। আঁশের ব্যবহারও খুব কম। পচন ক্ষমতা ডাশ রেখে পাটের পানির শোষণ কমানোর ওপর গবেষণা করলেন তিনি। সফল হলেন। পাটকে পানিতে ডুবিয়ে, রেডিশন দিয়ে এর শক্তি বাড়ালেন। গুণগত মান নিশ্চিত করলেন। পাটের চট যাকে আমরা পাটের বস্তা, সুতলি (সুতা বা দড়ি) বলি, সেগুলো এবং পাট থেকে কার্পেট আবিষ্কার করলেন। এক সময়ে প্রধান এই অর্থকরী ফসল নিয়ে তার যে আবিষ্কারগুলো সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘সোনালি ব্যাগ’। তার আগে ১৯৯৪ সালে ‘বেঙ্গল কার্পেট’ নামের এক প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে আলাপ করল ও তারা তার উদ্ভাবনগুলো ব্যবহার করতে চাইল। এখন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ। মাঝে অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বেশকটি দেশে গবেষণা কাজে গেলেন তিনি। জার্মান অ্যাকাডেমি অব এক্সচেঞ্জ সার্ভিস (ডিএএডি) বৃত্তি পেয়ে বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে গেলেন। পাটের আঁশকে ‘রিইম্পোজিট কম্পোজিট’ করার জন্য গবেষণা করেছেন। ১৯৯৭ সালে জাপান গেলেন। ‘মাসরুমাই ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ (এমআইএফ)’ পেলেন। দানাদার পলিমারের সঙ্গে পাটের গুঁড়ো মিশিয়ে গবেষণা করলেন। ছয় মাস থেকে ওয়ান টাইম ইউজ প্লেট, গ্লাস তৈরি করলেন। রাবারের সঙ্গে দানাদার পলিমার মিশিয়ে এগুলো বানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত গবেষণাগারেও গবেষণা করেছেন। বিদেশে থাকতে ভালো লাগে না, পাট নিয়ে কাজ করতে ২০০০ সালে তিনি দেশে ফিরলেন।
ঢেউটিন, হেলমেট, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের দরজার রিং, সø্যাব, চেয়ার, টেবিলসহ নিত্যদিনের পণ্য তৈরির কথা ভাবলেন। তবে দেখলেন, পলিথিনের ব্যবহার খুব বেড়েছে। সব কাজে পলিথিন ব্যবহার করা হয়। এ পরিবেশ পুরোপুরি দূষিত করে ফেলবে। সেই আতঙ্কে বিখ্যাত এই বিজ্ঞানী ও গবেষক পলিথিনের বিকল্প আবিষ্কারে নামলেন। এমন কিছু তৈরি করবেন যেটি পচবে, পরিবেশ বাঁচাবে। পাটের আঁশ থেকে ‘সেলুলজ’ নামের উপাদান নিয়ে পলিথিনের বিকল্প তৈরি করা যায় ভাবলেন। কাজ শুরু করলেন ২০০২ সালে। পাটের আঁশ থেকে পলিব্যাগ আবিষ্কার করলেন। নাম রাখলেন ‘জুট পলিমার’। এ আবিষ্কারে ছয়টি বছর কেটেছে তার। এই দলে তার মাস্টার্স, এমফিলের ছাত্রছাত্রীরা ছিলেন। তারা পাগলের মতো কাজ করেছেন। পিএইচডির ছাত্র ড. হারুন-অর-রশিদের সাহায্যের কথা আলাদা করে বললেন তিনি।
পাট মন্ত্রণালয়ের এক সেমিনারে তার এই জুট পলিমার পাটমন্ত্রীর চোখে পড়ল। জাতীয় পাট দিবসে পলিথিনের বিকল্প এই ব্যাগ দেখে বিচারকরা তাকে ২০১৭ জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত করলেন। প্রধানমন্ত্রী তার হাতে ‘ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময়ও বিশ্বাস করতে পারেননি, এটি পাটের তৈরি হুবহু পলিথিনের বিকল্প। এই আবিষ্কারে প্রধানমন্ত্রীও খুব খুশি হলেন। আলাদা করে তাকে ডেকে এই বিষয়ে আলাপ করলেন। সব সাহায্যের আশ^াস দিলেন। তিনিই সেই জুট পলিমারের নাম রাখলেন ‘সোনালি ব্যাগ’। এই হলো পলিথিনের বিকল্প জুট পলিমারের সোনালি ব্যাগ হওয়ার গল্প।
এই ব্যাগ বাজারে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এটি পুরোপুরি পাটের তৈরি, দেখতে পলিথিন ব্যাগের মতো। তবে সোনালি ব্যাগ অনেক টেকসই, মজবুত। পাটের সূক্ষ্ম সেলুলজ গবেষণাগারে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয়েছে। এটি পলিথিনের মতো কোটি, কোটি বছর বাঁচবে না। ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে মাটিতে পুরোপুরি পচে যাবে। পানিতেও পচে যাবে। এই ব্যাগের পরিবেশ দূষণের কোনো আশঙ্কা নেই। মাটি, পানি ছাড়া অন্য কোনো জায়গায় থাকলে এটি সময় নিয়ে হলেও পচে যাবে। সোনালি ব্যাগের খরচ শুরুতে সামান্য বেশি। এক কেজি পলিথিনের সাধারণ ব্যাগের দাম যেখানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা; এক কেজি পচনশীল পাটের পলিব্যাগের (সোনালি ব্যাগ) দাম হবে ৫০ টাকা বেশিÑ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। উৎপাদন বাড়লে খরচ আরও কমবে বলে জানালেন আবিষ্কারক। ড. মোবারক আহমেদ খান আরও বললেন, ‘এই ব্যাগ পুড়লে পলিথিনের মতো আঠা হবে না, ছাই হয়ে বাতাসে উড়ে যাবে।’ তবে তিনি দুঃখ করলেন, ‘এই ব্যাগ আবিষ্কারের তহবিল জোগাড় করতে খুব কষ্ট হয়েছে। পরে সরকারের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরমাণু শক্তি গবেষণা কেন্দ্র তহবিলের জোগান দিয়েছে। সেই টাকায় জাপান, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পাটের ব্যাগ তৈরির গবেষণা ও উৎপাদনের জন্য আলাদাভাবে মেশিন কিনতে হয়েছে। এখন ১শ টন সোনালি ব্যাগ তৈরির জন্য ৫শ কোটি টাকা খরচ হয়। বাণিজ্যিকভাবে ব্যাগ বানালে খরচ আরও কমবে। এখন ব্যাগপ্রতি খরচের ভিত্তিতে বিক্রি করতে দাম রাখতে হচ্ছে ১০ টাকা। লোকে ব্যাপকভাবে ব্যাগ কিনলে ৫ থেকে ৬ টাকা দামে ব্যাগ পাওয়া যাবে।’
২০১৮ সালের ১২ মে থেকে ‘সোনালি ব্যাগ’ তৈরি শুরু হয়েছে। ঢাকার ডেমরায় সরকারি পাটকল লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে প্রতিদিন ১ হাজার পিস সোনালি ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে দিনে দুই হাজার পিস ব্যাগ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। ব্যাগগুলো সরকারি কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আক্ষেপ করে এই ব্যাগের আবিষ্কারক ও পাটের দুর্দিন মুছে দেওয়ার নেপথ্য নায়ক বললেন, ‘সরকার পাটের মাধ্যমে এই ব্যাগ তৈরির কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত বাজেট না পেলে পাটজাত এই পণ্যটি তৈরির সুফল পাওয়া যাবে না। দিনে ৭ থেকে ১০ টন ব্যাগ তৈরি না করতে পারলে এই মেশিনগুলো চালু রাখা যাবে না।’ পাট থেকে তিনি পাটের মাটরসাইকেলের হেলমেট, টাইলস, চেয়ার, টেবিল, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের রিং, ঘরের চালের ঢেউটিন, গাড়ির বোর্ড, দরজাসহ সাড়ে তিনশ নিত্যদিনের পণ্য বানিয়েছেন। এগুলোও পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব, বাজারে পাওয়া এই ধরনের পণ্যগুলোর চেয়ে দাম, গুণ, মানে ভালো। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি ফরমালিনের বিকল্প ‘নিরাপদ ফুড প্রিজারভেটিভ’ তৈরি করেছেন। নাম রেখেছেন ‘কাইটোসান’। এটি চিংড়ির খোসা থেকে বানিয়েছেন। এটিও পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ। তবে তার কোনো পণ্যই পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে আসেনি। অথচ অন্য পণ্যগুলোর মতো কাইটোসানও মানবদেহের কোনো ক্ষতি করে না। একটি কাইটোসান বানাতে তার ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করতে পারলে খরচ অনেক কমবে। ড. মোবারক আহমেদ খান জানালেন, ‘কাইটোসানে মাছ, টমেটো ২০-২৫ দিন অপচনশীল থাকে।’ তার আরেক আবিষ্কার ‘জুটন’, পাটের আঁশের সঙ্গে পলিমারের মিশ্রণ। এটি আসলে ঘরের চালের টিন। দেখতে ঢেউটিনের মতো, মরিচা ধরে না, স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর সিসাও নেই। সাধারণ ঢেউটিনের চেয়ে দামে কম, মজবুত। অনেকদিন ধরে নানা পরিবেশবান্ধব গবেষণা ও পাটকে বাঁচাতে উদ্যোগী হওয়ায় ২০১২ সালেই এই বিজ্ঞানী ‘বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস অ্যাওয়ার্ড’ (একে বাংলাদেশের নোবেল বলা হয়) লাভ করেছেন। এই কৃতী বিজ্ঞানীর ২০টি বই, ৭শ বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা আছে।
তার ব্যক্তিগত
১৯৫৮ সালের ৩১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ শহরে তার জন্ম। ১৯৮৭ সালে বিয়ে। স্ত্রী জাহানারা বেগম, ছেলে শাওক এম এম খান, মেয়ে আরশী খান। স্ত্রী অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অবসর নিয়েছেন। ছেলে জার্মানিতে মিডিয়া ইঞ্জিনিয়ার, মেয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়েন।