ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সকাল ১০টায় গোন্দিনগরস্থ কলেজের সামনে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। এ সময় সড়কে যানবাহন চলাচলে বাধা দিলে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষার্থী রাহুল ও পারভেজ অভিযোগ করেন, শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় বেশকিছু দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে। এতে দ্বিতীয় শিফটে ক্লাস বন্ধ থাকে। গত বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিক্ষকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। ফলে লেখাপড়ায় পিছিয়ে যাচ্ছে তারা। তাই ক্লাস চালুর দাবিতে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা।
দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আলী আকবর খান সংকট সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা শনিবারের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।
শিক্ষক নেতা হেলাল উদ্দিন বলেন, “এক শিফটের শিক্ষক দিয়ে দুই শিফট চালানো এটা শিক্ষকদের জন্য কষ্টের। এরপরেও স্বল্প ভাতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছিল কিন্তু নিম্ন বেতন স্কেল অনুযায়ী ভাতার দেয়া ঘোষণা শিক্ষকরা মানতে নারাজ।
কলেজের অধ্যক্ষ আলী আকবর খান জানান, প্রথম শিফটের শিক্ষকরা দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করান। এজন্য সরকার ২০১৫ সালে ঘোষিত বেতন স্কেলের শতকরা ৫০ ভাগ ভাতা হিসেবে প্রদান করে। কিন্তু ১৮ সালের অক্টোবরে এসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ হয় ২০০৯ সালের বেতন স্কেলের ৫০ভাগ টাকা দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস নেয়া শিক্ষকদের ভাতা হিসেবে দেয়া হবে।
এতে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তাষ বিরাজ করে। আন্দোলনে নামে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা।
কলেজের অধ্যক্ষ আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রথম শিফটের জন্য ৩৭ জন শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু আছে মাত্র ৯জন। অন্য প্রকল্পের শিক্ষক আছে ১৫জন। এই দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে প্রথম শিফটের ক্লাস নেয়া হয়। ওই শিক্ষক দিয়েই দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয়।