চাকসু নিবার্চন-৩

ছাত্রসংসদ নির্বাচনই ভরসা ছাত্রদলের!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনই বিলীন হতে যাওয়া ছাত্রদলের ভরসা বলে মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৯ বছর পর সম্প্রতি চাকসু নির্বাচন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নীতিমালা যুগোপযোগী করতে গঠনও করা হয়েছে নীতিমালা রিভিউ কমিটি। ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হলেও ক্যাম্পাসে তাদের সক্রিয় কর্মকাণ্ড চলমান। তবে ২৪৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে বিলীন হতে বসেছে চবি ছাত্রদল।

ছাত্রদলের এই অবস্থার পেছনে রয়েছে অছাত্র-বিবাহিতদের কমিটিতে পদায়ন, ছাত্রত্বহীন নেতৃত্ব, রাজনৈতিক মামলা, ছাত্রলীগ কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে হামলা, ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারা, হলগুলোতে ছাত্রলীগের দখলদারিসহ নানা কারণ।

তাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ফের চালু করার জন্য চাকসু নির্বাচনকে শেষ ভরসা হিসেবে দেখছেন শাখা ছাত্রদলের নেতারা। আবার চাকসু নীতিমালা রিভিউ কমিটিতে সবাই আওয়ামীপন্থী হওয়ায় সে আশাও ক্ষীণ বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা আসলেই নিষ্ক্রিয় কারণ ক্যাম্পাসে তো রাজনীতির পরিবেশই নাই, সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও কোন নিরাপত্তা নেই। প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারছে না, ছাত্রলীগের কিছু পথভ্রষ্ট নেতাকর্মীদের জন্য। প্রশাসন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সহাবস্থান নিশ্চিত করলে আমরা চাকসু নির্বাচনে যাব। দলের হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব। বিতর্কিত ডাকসুর প্রক্রিয়ার মতো চাকসু নির্বাচন দিলে আমরা চাকসু নির্বাচনে যাব না।

তিনি আরও বলেন, চাকসু নীতিমালা কমিটি করা হয়েছে ‘একপাশের’। এখন পর্যন্ত তাদের কোন কার্যক্রম দেখছি না। আমরা আশা করছি আমাদের শিক্ষকরা ডাকসু নির্বাচনের মতো বিতর্কে  জড়াবেন না।

জানা যায়, গত ২০১১ সালের ২৯ মার্চ আমিনুল ইসলাম তৌহিদকে সভাপতি ও সাঈফুদ্দিন সালাম মিঠুকে সাধারণ সম্পাদক করে চবি ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার পর প্রায় ৬ বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর খোরশেদ আলমকে সভাপতি ও মো. শহিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৯ সদস্যেও আংশিক কমিটি দেওয়া হয়। এর সাত মাস পরে খোরশেদ আলমকে সভাপতি ও মো. শহিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক রেখেই ২৪৩ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে সভাপতি খোরশেদ আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন ২০০৪-০৫ শিক্ষা বর্ষে। সম্মান শেষ করেছেন ২০১০ সালে ও স্নাতকোত্তর ২০১২ সালে। বর্তমানে তার ছাত্রত্ব নেই। সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ২০০৭-০৮ শিক্ষা বর্ষেও মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বর্তমানে তারও ছাত্রত্ব নেই। এছাড়াও কমিটিতে স্থান পাওয়াদের তিন ভাগের প্রায় একভাগ ২০০২-২০০৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন প্রায় অর্ধযুগ আগে। স্বাভাবিক হিসেবে তাদের ছাত্রত্ব নাই। এদের অনেকেই আবার বিভিন্ন জায়গায় চাকরিও করছেন। কেউবা আবার ব্যবসা ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছে।

দীর্ঘদিন চবি ক্যাম্পাসে তাদের কার্যক্রম চোখে না পরলেও ২০১৮ সালে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ফুল দিতে এসে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম, যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের আহ্বায়ক নাজমুল হোসাইন ও কলা অনুষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ। সর্বশেষ এবছর ২৩ জানুয়ারি পরীক্ষা দিতে এসে ছাত্রলীগের হাতে বেধড়ক মারধরের শিকার হন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন তুষার। এরপর শাখা ছাত্রদলের কোন নেতাকে আর ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি। এমনকি এ বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চেও প্রোগ্রামেও ছাত্রদলের কোন নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। তবে চাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে আবার ক্যাম্পাসে আসতে চান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এসব বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম (শহীদ) দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে আমাদের অনুসারীদের ওপর বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ হামলা করেছে। যেগুলোর বিচার আমরা পায়নি। তাই আমরা ক্যাম্পাসে যেতে পারছি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ছাত্রলীগের প্রতি পক্ষপাত আচরণ বন্ধ করে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত না করলে চাকসু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যারা আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে তাদেরই চাকসু নীতিমালা রিভিউ কমিটিতে রাখা হয়েছে। ছাত্রলীগকে সুবিধা দিতে শুরু থেকে এমন দলকানা নীতি অবলম্বন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবুও আমরা চাকসু নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে নানা দাবি পেশ করব। আমাদের অনেকের ছাত্রত্ব না থাকলেও যাদের ছাত্রত্ব আছে তাদের দিয়েই প্যানেল করার যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সকলের সাথে আলোচনা করে ক্যাম্পাসে সহ-অবস্থান নিশ্চিত ও নির্বাচনী পরিবেশ করতে পারে তাহলেই আমরা আবার ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারব।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রলীগের সাথে লেজুড়বৃত্তিতে থাকা চবি প্রশাসনের উপস্থিতিতে আমরা বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনে ক্যাম্পাসে গিয়ে সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছি। এগুলোর কোন বিচার হয়নি। নির্বাচনের আগে আমাদের ছাত্রদলের পদধারী অনেককে ছাত্রলীগের নেতারা মারধর করে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে দেওয়ার পর সরকারপন্থী প্রক্টরিয়াল বডি তাদেরকে রাজনৈতিক মামলায় পুলিশে দিয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে আমরা ক্যাম্পাসে আমাদের কোন কার্যক্রম চালাতে পারছি না।