বনানীর অগ্নিকাণ্ড: ৮ম তলা থেকে আগুন ছড়িয়েছে

রাজধানী বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৮ম তলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়েছে।

রবিবার ভবনের অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে এ কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় এবং ফায়ার সার্ভিসের গঠিত পৃথক তদন্তকারী দলের কর্মকর্তারা। এফ আর টাওয়ারের পাশে  সফুরা টাওয়ারের নিচে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত  দুই ঘণ্টা এই সাক্ষ্যগ্রহণ চলে।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফায়জুর রহমান বলেন, ২৪ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নিয়েছি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ৮ম তলার একটি বায়িং হাউসে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তারপর সেই আগুন ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে ছড়িয়েছে।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনে কোন ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি। জরুরি  বহির্গমন সিঁড়ির দরজা বন্ধ ছিল। ভবনে কখনো ফায়ার ড্রিল হয়নি।

তিনি বলেন, ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর গ্লাসে ঢাকা থাকার কারণে ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, সিঁড়ি ধোয়ায় আচ্ছন্ন ছিল, যার কারণে ভেতরে আটকে পড়া লোকজনের  বাইরে বের হওয়াটা খুবই চ্যালেঞ্জ ছিল।

তবে এফ আর টাওয়ারের ৮ ম তলায় অবস্থিত স্পেকট্রা এস এন টেক্স লিমিডেট নামে বায়িং হাউসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমার্শিয়াল মিলন উদ্দিন বাধন ও সহকারী ম্যানেজার কফিল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, আগুন তাদের ফ্লোর থেকে লাগেনি। তারা দুজনেই ৮ ম তলার  সিঁড়িতে ধোয়া দেখে সেই সিঁড়ি দিয়ে নেমে বাইরে চলে যান।

কফিল উদ্দিন বলেন, সকাল ১০ টা থেকে তারা স্যাম্পল নিয়ে কাজ করছিলেন। আগুনের সময় তারা দুজন ছাড়া আর কেউ সেখানে ছিলেন না। তাদের মালিকের নাম সেলিম উল্লাহ, তিনিও ছিলেন না।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক নিয়াজ আহমেদ জানান, তাদের তদন্ত কমিটি ১২ জন প্রত্যক্ষদর্শীর  সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। তাদের বেশির ভাগ বলেছেন, আগুনের সূত্রপাত ৮ ম তলা থেকে হয়েছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সে বিষয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও  ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির একাধিক কর্মকর্তা জানান,  গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য আগুনের কারণ সম্পর্কে জানা, ভুক্তভোগীরা ভেতরে কী ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন সেই বিষয়ে জেনে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশমালা পেশ করা। ফায়জুর রহমান বলেন, আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে তারা তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন।

২৮ মার্চ এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর ২৯ মার্চ থেকে বিভিন্ন তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তদন্তের অংশ হিসেবেই গণশুনানি করা হয়।

ফায়জুর রহমান বলেন, আমরা জমির মালিকের বক্তব্য শুনেছি,  সে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছে। পাশাপাশি এই ভবন নির্মাণে কাজে যারা ছিলেন তাদেরকেও কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য বলেছি।

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির পাশাপাশি একই প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব  ড. তরুণ কান্তি শিকদার। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মাসুদুর রহমান।

মাসুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, আগুনের কারণ অনুসন্ধানের জন্যই বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আশা করছি আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে আমাদের প্রতিবেদন জমা হবে।