মহাকাশে লাইভ স্যাটেলাইট ধ্বংস করে ভারত নিজেদেরই বিপদ ডেকে এনেছে! ‘মিশন শক্তি’ অভিযানে ভেঙে যাওয়া স্যাটেলাইটের টুকরোগুলো কক্ষপথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাও উপগ্রহের গতিবেগে। এখন তাদের বাধা পেরিয়ে ‘এমিস্যাট’ ও বিদেশি ২৮টি উপগ্রহকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছে দেশটির বিজ্ঞানীরা।
বুধবার অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল দিয়ে লো-আর্থ অরবিটে (এলইও) থাকা একটি কাজে না লাগা কৃত্রিম উপগ্রহকে ধ্বংস করে ভারত। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে এই অপারেশন শেষ হয়। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ কথা জানান।
ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৩০০ কিলোমিটার উপরে বায়ুমণ্ডলের স্তর যেখানে বেশ পাতলা, আর পৃথিবীর অভিকর্ষ বলও ততটা জোরালো নয়, সেখানে উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষের ওই টুকরোগুলোর পৃথিবীতে ফিরে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। তারা অনন্ত কাল ধরে কক্ষপথেই ঘুরতে থাকবে উপগ্রহটির (মাইক্রোস্যাট) গতিবেগে।
সেই টুকরোগুলো এক ধরনের ‘মেঘ’ তৈরি করেছে ৩০০ কিলোমিটার উপরের কক্ষপথে। পিএসএলভি-সি-৪৫ রকেটকে সেই ‘মেঘ’ ফুঁড়েই যেতে হবে আরও উপরের কক্ষপথে। তার ফলে রকেটের সামনে যে কোনও মুহূর্তে এসে পড়তে পারে টুকরোগুলো।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা এর আগে ভারতের সমালোচনা করে বলে, ‘মহাকাশ বাহুবল জাহির করার জায়গা নয়। সেটা করতে গিয়ে অন্য দেশের বিপদ ডেকে আনাটাও ঠিক নয়।’
মার্কিন সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড এক বিবৃতিতে বলে, ‘টুকরোগুলো যত এগিয়ে আসবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে, ততই তা দেখা যাবে আরও বেশি করে। ওই সংখ্যা বাড়তে পারে।’