অগ্নিকাণ্ড রোধে যে ১৫ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্নিকাণ্ড রোধ এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বহুতল ভবন মালিকদের জন্য বছরের শুরুতে দমকল বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট গ্রহণ, বিল্ডিং কোড অনুসরণসহ ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শিল্প কারখানার ক্ষেত্রে ফায়ার ক্লিয়ারেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। কিন্তু আমাদের বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম নেই। কাজেই এটি একটু পরীক্ষা করে দেখা যে, বছর বছর এটি নবায়ন করা যায় কি না। যদি করা যায় তাহলে বাধ্য হয়েই সবাইকে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাটা নিতে হবে। যেমন, ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে এখন এই কারণে আগুন লাগার হার অনেকটাই কমেছে।

তিনি বলেন, খুব কঠোরভাবে এই আইনটি প্রয়োগ করা হবে। এজন্য পূর্তমন্ত্রী জানান, ঢাকা শহরে তাদের ২৪টি দল কাজ করছে। যারা এই সংক্রান্ত বিষয়ে বহুতল ভবনগুলোর ব্যাপারে প্রতিবেদন দেবে এবং যেসব স্থানে এসব নতুন সুযোগ-সুবিধা স্থাপন করা সম্ভব সেখানে করতে হবে না হয় ভবন ভেঙে ফেলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-

১. বহুতল ভবন তৈরির ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস সাধারণত একটি ক্লিয়ারেন্স দেয়, সে ক্ষেত্রে এখন ক্লিয়ারেন্সই যথেষ্ট নয় এটি পরিদর্শন করে এখানে বহুতল ভবন নির্মাণযোগ্য কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

২. ফায়ার সেফটির বিষয়টি নিয়মিত অনুসন্ধান করা এবং শিল্প-কারখানার মতো প্রতি বছর এটি নবায়ন করা যায় কি না, বছর বছর তা দেখা।

৩. বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা।

৪. নিয়মিত ফায়ার ড্রিল করা (অগ্নিনির্বাপণ মহড়া করা), যেটি প্রতি তিনমাসে একবার হতে পারে।

৫. অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দেখা যায় ধোঁয়াতেই অধিকাংশ মানুষ শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায়। কাজেই পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এই স্মোক কন্ট্রোলের যে ব্যবস্থা রয়েছে তা অনুসরণ করা।

৬. আগুন লাগলে পানির অভাব দূর করার জন্য রাজধানীর যেখানে যেখানে সম্ভব জলাশয় বা জলাধার তৈরী করা।

৭. রাজধানীর ধানমন্ডী, গুলশানসহ যেসব লেক রয়েছে সেগুলো সংরক্ষণ করা।

৮. বাংলাদেশে আগুন লাগলে ৩০ তলা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য বর্তমানে তিনটি সুউচ্চ মই (ল্যাডার) রয়েছে। এই সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

৯. ভবন নির্মাণের সময় স্থপতিরা যেন পরিবেশ এবং বাস্তবতার নিরিখে বহুতল ভবনের নকশা প্রণয়ন করে। বর্তমানের ম্যাচ বক্সের আদলে দরজা-জানালা ব্লক করে পুরো কাঁচ ঘেরা দিয়ে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবন করা হচ্ছে। সেভাবে না করে বারান্দা বা জানালা নির্মাণ করা। যেন কোনো বিপদ ঘটলেও শ্বাস নেয়ার জন্য পর্যান্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকে।

১০. ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শতভাগ ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা।

১১. ইলেকট্রিক সিস্টেম ডোর ফায়ার এক্সিটে থাকবে না, সেগুলো খোলা এবং খালি হাতে নিয়ন্ত্রিত হতে হবে।

১২. দমকল বাহিনীর সেফটি গিয়ারে তারপলিন সিস্টেম এবং নেট সিস্টেম অন্তর্ভূক্ত করা। যাতে কোথাও আগুন লাগলে মানুষ তার মাধ্যমে ঝুলে ঝুলে নেমে যেতে পারে।

১৩. হাসপাতাল এবং স্কুলগুলোতে রুমের বাইরে বারান্দা বা খোলা জায়গা রাখা। ইন্টেরিয়ার ডিজাইনাররা অনেক সময় এগুলো ব্লক করে দেয়, কাজেই সেটা যেন না হয়।

১৪. আগুনের সময় লিফট ব্যবহার না করা, এ জন্য সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

১৫. প্রতিটি ভবনে কম করে হলেও দুটি এক্সিট পয়েন্ট যেন থাকে।

উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বনানী এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে তিনটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

খবর: বাসস